kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকল্প আছে, সুফল নেই

নিখিল ভদ্র   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্প আছে, সুফল নেই

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত ‘কপোতাক্ষ নদ’ এখন দখল, দূষণ ও ভাঙনের কারণে মৃতপ্রায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই নদকে বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাব্যতা ফেরাতে প্রথম পর্যায়ে ২০১১ সালে ২৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২০ সালে ৫৩১ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পটির দুই বছর পার হলেও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি মাত্র ২৭.৭৩ শতাংশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে নদ খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পটিতে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৬০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ৫৪ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্পের মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ। আর বাস্তবায়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ২৭.৭৩ শতাংশ। আরো বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে চলতি বছরে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পের ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা রয়েছে অর্থ বিভাগের। তাই অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এর আগে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে বাস্তবায়ন কাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কপোতাক্ষের খনন প্রকল্প নেওয়া হয়। কমিটির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়েই এটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের অর্থ দ্রুত ছাড়ের জন্য।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুন মাসে। এর আওতায় ছয়টি এলাকা পুনঃখনন ও ড্রেজিং করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পুনঃখননের পর এই নদের এক পার থেকে অন্য পারের দূরত্ব হবে ৫৫ থেকে ৭০ মিটার। কপোতাক্ষ নদ ও এর শাখা নদী মিলিয়ে প্রায় ২৮২ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পে পলি ব্যবস্থাপনা, টাইডাল প্রিজম বৃদ্ধি ও নিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৩৫ বছর মেয়াদি জোয়ার-ভাটা নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে ২০১১ সালের প্রথম প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন করে পাউবো। ২০১৭ সালে শেষ হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পাখিমারা বিলে জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) তৈরি করা হয়। জোয়ারের পানি বিলে তোলা হয়, যাতে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি বিলে গিয়ে পড়ে বিলের উচ্চতা বাড়ে। আবার ভাটার সময় বিলের পানি নদীতে ফিরে স্রোত বাড়ায়। অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক সেতু নির্মাণের কারণে পলি জমছে, নদী সংকুচিতও হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) প্রতিবেদন বলছে, কপোতাক্ষের মাঝখানে সেতুর পিলার স্থাপন করায় নদীতে পলি জমেছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাইপাস সড়ক করায় নদীর ৭০-৮০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এটাও পলি জমার একটি কারণ।

এ বিষয়ে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, জোয়ারাধার (টিআরএম) পুরোপুরি চালু না করা গেলে নদটি রক্ষা করা যাবে না। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হলে সেটা নৌপথকে বাঁচিয়ে রেখেই করতে হবে।



সাতদিনের সেরা