kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

যথাযথ ধর্মীয় মর্যদায় শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ রবিবার ভোরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে নেমে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই উৎসব সমাপ্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই পূজার জন্য সারা বছর উদগ্রীব হয়ে থাকেন তারা। দুর্গাপূজার প্রস্তুতি পর্ব বা মহালয়ার প্রথম প্রহরে শেষ হয় পিতৃপক্ষের, আর শুরু হয় দেবীপক্ষের।

একই সঙ্গে দুর্গাপূজার মূল অংশের প্রস্তুতি পর্ব হয়। তাই ভোর হতেই সকল পূজা মণ্ডপে পুরোহিতের ভক্তিকণ্ঠে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা-নমস্তৈস্য নমস্তৈস্য নমোঃ নমোঃ’ মন্ত্র উচ্চারণ শোনা যায়। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় নানান আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজিন ছিল।

চণ্ডীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘট স্থাপন এবং ঢাক-কাঁসর ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানান ভক্তরা। ভক্তিমূলক সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা ছিল দিনের আনুষ্ঠানিকতার অংশ। অনেক ভক্তই তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোর ৬টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ করে দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। সকাল ৯টায় ত্রিভঙ্গচরণ ব্রহ্মচারীর চণ্ডীপাঠের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে ইয়াচণ্ডী অর্চনা ছিল। বেলা ১১টা পযন্ত বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা আবাহন ও ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সকালে মহালয়ার মূল আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে ঘট স্থাপন করে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হয়। মহালয়ার এই আয়োজনে অংশ নেন দেবীর ভক্ত ও অনুরাগীরা। নানান বয়সের ভক্তরা আসেন দেবী বন্দনায় অংশ নিতে। তারা সুখ, শান্তি ও সম্মৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দিরেও ছিল অনুরুপ আনুষ্ঠানিকতা। সেখানে মিশনের অধ্যক্ষ চণ্ডীপাঠ ও চণ্ডীপূজা ছাড়াও আবাহন সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ বনানী পূজামণ্ডপে ভোরে চণ্ডীপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া স্বামীবাগের লোকনাথ মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপ এবং খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে সনাতন সমাজকল্যাণ সংঘের (সসকস) পূজামণ্ডপসহ রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।

উল্লেখ্য, ‘মহালয়া’ কথাটি এসেছে মহালয় থেকে। মহালয়ের অর্থ পরমাত্মা। বৃহৎ আলয়। সৌর আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের নাম মহালয়। ব্যাকরণগত দিক, মহান আলয় যাহাতে তাহা— বহুব্রীহি সমাস। মহালয় + আপ- স্ত্রীলিঙ্গে মহালয়া। অন্যদিকে, মহালয়া যেহেতু একটি তিথি- এই তিথি শব্দটি সংস্কৃতে স্ত্রীলিঙ্গ বলেই বিশেষণ হিসেব শব্দটি হয়েছে মহালয়া। মহালয়া হলো শারদীয়া দুর্গাপূজার আগে অমাবস্যা- অর্থাৎ আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অমাবস্যা। আর দুর্গোৎসবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বেও একটি মহালয়া। অপর দুটি হচ্ছে- বোধন ও সন্ধিপূজা।



সাতদিনের সেরা