kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না : ড. মাহফুজুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৫৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না : ড. মাহফুজুল

ইলেকশন মনিটারিং ফোরাম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে ইভিএম পদ্ধতিতেই সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নতুন প্রযুক্তির ইভিএম মেশিনে আগের রাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। কারণ সকালে ইভিএম মেশিনে শূন্য ভোট দেখিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু করতে হবে। এমনকি ভোট কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই ইভিএম পদ্ধতিতে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইলেকশন মনিটারিং ফোরাম আয়োজিত ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ সব কথা বলেন তারা।

ইলেকশন মনিটারিং ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন ইভিএম বিশেষজ্ঞ ড. মাহফুজুল ইসলাম। তিনি ইভিএমের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, 'নতুন এই মেশিনে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। ভোটের সময় ছাড়া আগের দিনে বা রাতে কখনোই ভোট দেওয়া যায় না। ভোটার আঙুলের ছাপ দিলেই কেবল ইলেকট্রনিক ব্যালট পেপার ভোটদানের জন্য উন্মুক্ত হয়। '

তিনি আরো বলেন, 'ব্যালট পেপার অন হওয়ার পর ভোটার তার ভোট প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে তা আবারো অকেজো হয়ে যায়। ফলে ভোট কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার সুযোগ এই মেশিনেই বন্ধ করা সম্ভব। ইভিএমে ইন্টারনেট ও ব্লু-টুথ নেই। '

তিনি বলেন, 'কেন্দ্রের মধ্যে ইভিএমের কোনো পার্টস চেঞ্জ করারও সুযোগ নেই। কোনো প্রোগ্রাম বা পার্টসও বাইরে পাওয়ার সুযোগ নেই। ভারত বা অন্য দেশের ইভিএমে কাস্টমাইজড করার সুযোগ থাকলে আমাদের ইভিএমে সেটা সম্ভব নয়। নির্বাচনের ফলাফলও পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলাফল প্রকাশের পর প্রিন্ট করে ফলাফলের কপি কেন্দ্র পাঠানো হয়। আবার ফলাফল দিতে দেরি হলেও সমস্যা নেই। কুমিল্লায় আধাঘণ্টা পরে ফল প্রকাশ করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় কিন্তু আধাঘণ্টা কেন, ৩০ বছর পরেও ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই। একমাত্র শতভাগ স্বচ্ছ ভোটে ইভিএমের বিকল্প নেই। '

ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচনে হাঙ্গামা ও রক্তপাত বন্ধ করবে বলে দাবি করেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য ড. আব্দুল জব্বার খান। তিনি বলেন, 'মানুষের করা যে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয় ইভিএম মেশিন। কেন্দ্র দখল করে ভোট দেওয়া যায় না বলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাতের সুযোগ নেই এই ব্যবস্থায়। তাই শান্ত পরিবেশে নির্ভয়ে ভোট দিতে ইভিএমের কোনো বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। '

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আহসান উল্লাহ বলেন, 'অতীতে ঘটে যাওয়া বহুবিধ ঘটনার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মাঝে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু উন্নত দেশের কাতারে যেতে হলে প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাতে হবে। ইভিএম হচ্ছে সেই প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। আবার একই মেশিন একাধিক নির্বাচনে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় নির্বাচনী ব্যয়ও কম। আগামী নির্বাচনে ইভিএমের সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। '

আলোচনায় অংশ নিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, 'যারা এক কোটি ২০ লাখ ভূয়া ভোটার নিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারাই ইভিএমের বিরোধিতা করছে। তারা হাঁ-না ভোটে বিশ্বাসী। তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশে গণতন্ত্র চায়। দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওই চক্রের বক্তব্যে জনমতের কোনো প্রতিফল নেই বলে তিনি দাবি করেন। '

ইভিএমের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, 'সার্চ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এখন ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনকেও স্বচ্ছ করা সম্ভব। তবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সবসময় জনমনে অনীহা থাকে। তাই ইভিএম সম্পর্কে জনগণকে সঠিক ধারণা দিতে হবে। '

লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, 'আমরা এখন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞান চর্চার যুগে বসবাস করি। সবকিছুই এগিয়ে গেছে প্রযুক্তির উন্নয়নে। তথ্যের স্রোতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ১৯৬০ সালে আমেরিকা ইভিএম চালু করে। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। জাপান-আমেরিকা কম্পিউটার নিয়ে খেলা করে আর আমরা গরুর ঘরে বসে স্বপ্ন দেখি। পৃথিবীতে যখন কাগজের ব্যবহার কমানো নিয়ে কথা বলা হয়, তখন আমরা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলি। '

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.আহসান উল্লাহ বলেন, 'প্রযুক্তি ব্যবহার না জানলে আমাদের অনেক প্রশ্ন জাগে। ইভিএমের প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়েও নানা প্রশ্ন। মানুষ যখন ইভিএমের ব্যবহার ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবে তখন তাদের এ দ্বিধা কেটে যাবে। '

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুন নুর দুলাল বলেন, 'দেশ এগিয়ে গেছে। সর্বত্রই উন্নয়ন হয়েছে। অবকাঠামো থেকে স্যাটেলাইট সব দিক থেকে দেশ এগিয়ে গেছে। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করলে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। '



সাতদিনের সেরা