kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নতুন শুরুতেও পুরনো অন্ধকার

মাসুদ পারভেজ, শারজা থেকে   

৩১ আগস্ট, ২০২২ ০৮:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন শুরুতেও পুরনো অন্ধকার

মুশফিকের বিপক্ষে সফল এলবির আবেদন রশিদের। ছবি : এএফপি

রশিদ খানের বলে মুশফিকুর রহিম গেলেন, এলেন মাহমুদ উল্লাহ। এসেই মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে মারলেন একদিকে, বল গেল আরেক দিকে। চাইলে এটিকেই ধরা যেতে পারে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যাটিংয়ের প্রতীকী ছবি। তারা করতে চাইল এক রকম, কিন্তু ঘটল পুরো উল্টো।

বিজ্ঞাপন

এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে শোনা গিয়েছিল ‘নতুন শুরু’র স্লোগান। এই শুরুতে যেখানে ব্যাটিংয়ে বাজার কথা ছিল নতুন দিনের অর্কেস্ট্রা, সেখানে বাজল পুরনো বিষাদের বিউগলই। শারজা স্টেডিয়ামের এক দিকের ছোট্ট সীমানা পেয়েও শর্ট বলে ছক্কা হাঁকানোর সাহসও করতে দেখা

গেল না কাউকে। শুরুতে নেমে আসা বিপর্যয়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ই কিনা এই সংস্করণের চাহিদানুযায়ী ব্যাটিংয়ের দাবিও ভুলে বসলেন ব্যাটাররা।

তাই যা হওয়ার, হলোও তাই। কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে জেতার জন্য বাংলাদেশের নিজেদের নির্ধারণ করা সীমানাই ছিল অন্তত ১৭০ রানের। কিন্তু টেনেটুনে পাস করার মতো করে তারা সাত উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারল মোটে ১২৭ রান। লড়াই করার মতো পুঁজি নয় অবশ্যই। তবু ব্যাটিংয়ের পুরনো অন্ধকার ফুঁড়ে জয়ের রেখা ফোটানোর চেষ্টায় হাল ছাড়লেন না বাংলাদেশের বোলাররাও।

ছাড়লেন না বলেই একটা সময় পর্যন্ত ম্যাচভাগ্য দুই দলের দিকেই ঝুলে ছিল। শুরুতে সাকিব আল হাসানের বলে মাহমুদ উল্লাহ আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের ক্যাচ ফেলার পরও হতোদ্যম হলেন না বোলাররা। বরং তাঁরা রান আটকালেন, প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চেপেও ধরলেন। তাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক সাকিবও। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিলেন। অন্য দুই স্পিনার শেখ মেহেদী ও মোসাদ্দেক হোসেনদেরও যখন ঠিকঠাক ড্রাইভ করতে পারছিলেন না আফগান ব্যাটাররা, তখন তৃতীয় স্পিনারের অভাবও টের পাওয়া গেছে। কিন্তু খেলতে নেমে যাওয়ার পর তো অন্য উপায় থাকে না। সাকিবকে তাই লড়াই চালিয়ে যেতে হলো।

তাতে শুরুতে দারুণ সাড়া দিলেন মুস্তাফিজুর রহমানও (দুই ওভারে ১৩ রান)। নিজের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও (পাঁচ রান) এমন বোলিং করলেন যে ডেথ ওভারে তাঁর কাছে আরো ভালো কিছুর আশা নিশ্চিতভাবেই করেছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু ডেথ ওভারেই তালগোল পাকালেন এই দুই পেসার। নিজেরা এলোমেলো বোলিং করলেন, আর তাতে বিসর্জনে গেল স্বল্প পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। দুই ‘জাদরান’ ইব্রাহিম আর নাজিবউল্লাহ মিলে শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তির অপেক্ষায় থাকা ম্যাচে উল্টো সহজ জয়ের তীরই দেখালেন আফগানদের। মুস্তাফিজ আর সাইফ উদ্দিনের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেওয়া নাজিবউল্লাহ শেষে এসে শারজায় যেন নামালেন ছক্কার বৃষ্টিই। তাতে ৯ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটের জয়ে ‘বি’ গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে সুপার ফোরে আফগানরা। সুপার ফোরের স্বপ্নে ১ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি

তাই এখন দুই দলের কাছে রীতিমতো ফাইনালের মর্যাদা পেয়ে গেছে।

অথচ সেই ম্যাচের আগে এগিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। সেটি বিসর্জনে গেল মুস্তাফিজ-সাইফ যুগলবন্দিতে। মুস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভার করতে আসার সময় ২৪ বলে ৪৩ রান দরকার ছিল আফগানদের। চাপের পরিস্থিতিতে অসম্ভব না হলেও কঠিনই। এলোমেলো মুস্তাফিজকে পেয়ে সুযোগটি লুফে নিলেন নাজিবউল্লাহ। বাঁহাতি পেসারকে ওই ওভারে ছক্কায় ওড়ালেন দুইবার। ১৭তম ওভার থেকে উঠল ১৭ রান। পরের ওভারে সাইফ উদ্দিনের ওপর দিয়ে বয়ে গেল আরো গতিশীল ঝড়। এবার দুটি বিশাল ছক্কার সঙ্গে নাজিবউল্লাহ মারলেন দুটি বাউন্ডারিও। ওই ওভার থেকে সব মিলিয়ে ২২ রান উঠতেই খেলা শেষ। দুই ওভারে জেতার জন্য আফগানদের প্রয়োজন নেমে আসে মাত্র চার রানে। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে মারা নাজিবউল্লাহর ষষ্ঠ ছক্কাটিই উইনিং স্ট্রোক।

মাত্র ১৭ বলে ছয় ছক্কা ও এক চারে হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংসে ম্যাচভাগ্য গড়া নাজিবউল্লাহর সঙ্গে ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়া ইব্রাহিমেরও (৪১ বলে অপরাজিত ৪২) এই জয়ে অবদান কোনো অংশে কম নয়। তবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে যেভাবে ম্যাচের শেষ টেনেছেন নাজিবউল্লাহ, তেমনি শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডও ভেঙেছেন মুজিব-উর রহমান। এই রহস্য স্পিনার বোলিং ওপেন করে তিন ওভারে একে একে তুলে নেন নাঈম শেখ ও এনামুল হকের পাশাপাশি সাকিব আল হাসানকেও। রশিদ খান এসে মুশফিক আর আফিফ হোসেনকে তুলে নেওয়ার পর মাহমুদ (২৭ বলে ২৫ রান) ও মোসাদ্দেক হোসেনের কাজ ছিল মান বাঁচানোর স্কোরে পৌঁছে দেওয়া।

৩১ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে সেই কাজটি মোসাদ্দেক ভালোমতো করলেও দলের সংগ্রহ যে নাজিবউল্লাহর ছক্কার সাধ্যসীমায়ই ছিল! মুস্তাফিজ আর সাইফ উদ্দিন একটু এলোমেলো হতেই নামল সেই ছক্কার বৃষ্টিও।

 



সাতদিনের সেরা