kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইসি গঠনে নাম ও প্রস্তাবকারীদের তথ্য না দেওয়ায় হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ আগস্ট, ২০২২ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসি গঠনে নাম ও প্রস্তাবকারীদের তথ্য না দেওয়ায় হাইকোর্টের রুল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটির কাছে কে কার নাম প্রস্তাব করেছে, সে তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তথ্য কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি রিটে আজ মঙ্গলবার এ রুল দেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শরীফ এম এস ইউ ভূঁইয়া।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

পরে শরীফ এম এস ইউ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির কাছে কে কার নাম প্রস্তাব করেছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের কাছে চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তথ্য অধিকার কমিশনে আবেদন করা হয়। কমিশন এসব তথ্য 'ব্যক্তিগত' উল্লেখ করে আবেদনটি খারিজ করে দেয়। কিন্তু যাচিত তথ্য ব্যক্তিগত হলে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা আইনে বলা আছে। কমিশন সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। যাচিত অনেকগুলো তথ্যের মধ্যে কোনো তথ্য ব্যক্তিগত হলে সেটুকু বাদ দিয়ে যেটুকু ব্যক্তিগত নয় সেটুকু তথ্য দিতে হবে। কিন্তু কমিশন কোনো তথ্যই দেয়নি। শুনানিতে আমরা দেখিয়েছি কোনো তথ্য না দিয়ে কমিশন সংশ্লিষ্ট আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তখন আদালত বলেছেন, এটি না করলে আদালতে রিট আবেদন নিয়ে আসতে হত না। "

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তি সুপারিশে সার্চ কমিটির কাছে প্রস্তাবিত নাম ও প্রস্তাবকারীদের পূর্ণ তথ্য চেয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তথ্য অধিকার অধিশাখায় আবেদন করেন বদিউল আলম মজুমদার। কিন্তু ১ মার্চ সংশ্লিষ্ট অধিশাখা এসব তথ্য সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করে।

এর বিরুদ্ধে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন সুজন সম্পাদক। নির্ধারিত সময়ে এর জবাব না পেয়ে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করেন তিনি। যাচিত তথ্য প্রদানযোগ্য নয় উল্লেখ করে গত ৭ জুন অভিযোগ খারিজ করে দেয় তথ্য কমিশন। পরে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত ২৩ জুন বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন।  

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’ গত ২৭ জানুয়ারি সংসদে পাস হওয়ার পর সে আইনের আলোকে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয় ৫ ফেব্রুয়ারি।

আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে কমিটির অন্য পাঁচ সদস্য রয়েছেন হাই কোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৩২২ জনের নামের প্রস্তাব আসে সার্চ কমিটির কাছে। নামগুলো ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবে কারা এসব ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি  ১০টি নাম চূড়ান্ত করে ২৪ ফেব্রুয়ারি তা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয় সার্চ কমিটি। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত এই ১০ নাম থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা