kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ডিটারজেন্ট, সাবান ও টুথপেস্টের দামও বাড়ল

সজীব আহমেদ   

২৩ আগস্ট, ২০২২ ০৮:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিটারজেন্ট, সাবান ও টুথপেস্টের দামও বাড়ল

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দামও। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে কম্পানি ভেদে ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কাপড় কাচার সাবান তিন থেকে আট টাকা, গোসল করার সাবান পাঁচ থেকে ১০ টাকা, থালাবাসন ধোয়ার তরল সাবান ৫০০ গ্রামে ১৫ টাকা এবং ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের টুথপেস্টের দাম পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই মাসেই দুইবার এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। কিছুদিন আগেও নতুন করে বাড়ানো হয়েছে, নতুন দামের পণ্য এখন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এসব পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বাড়ার কারণে এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যার কারণে বাধ্য হয়েই দাম বাড়িয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, উত্তর বাড্ডা বাজার ও জোয়ারসাহারা বাজারের দোকানগুলোতে থাকা পুরনো ও নতুন সরবরাহ করা পণ্যের মোড়কে লেখা দামের তুলনা করে এবং দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে এই বাড়তি দামের চিত্র পাওয়া গেছে।

দোকানগুলোতে দেখা গেছে, এক কেজি রিন পাউডারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা দুই মাস আগে বিক্রি করা হতো ১৫০ টাকায়। এক কেজি হুইল ওয়াশিং পাউডার বিক্রি করা হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা দুই মাস আগে ছিল ১০৫ টাকা। সার্ফ এক্সেল এক কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ২৩০ টাকায়, যা আগে ছিল ২১০ টাকা। এক কেজি ঘড়ি ওয়াশিং পাউডার বিক্রি করা হচ্ছে ১০৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৯০ টাকা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মেসার্স নূরজাহান স্টোরের ব্যবসায়ী মো. তারেক হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে গত দু-তিন মাসেই কম্পানিগুলো ডিটারজেন্ট, সাবান ও টুথপেস্টের দাম কয়েক দফা বাড়িয়েছে। ’

গোসল করার সাবানের মধ্যে ১২৫ থেকে ১৫০ গ্রামের লাইফবয়, লাক্স, মেরিল, স্যাভলন, ডেটলসহ বিভিন্ন কম্পানির প্রতিটি সাবানের দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে বাজারে থাকা অন্যান্য কম্পানির সাবানগুলোর দামও বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে কাপড় কাচার বিভিন্ন কম্পানির বল সাবানের দাম তিন থেকে আট টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব পণ্যের দাম বাড়া নিয়ে একই কথা বললেন রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি বছরে বাজারে সব কম্পানির সাবান ও ডিটারজেন্টের দাম কয়েকবার বাড়িয়েছে কম্পানিগুলো। কিছুদিন আগেও কয়েকটি কম্পানি সাবান ও ডিটারজেন্টের দাম বাড়িয়েছে। এভাবে একসঙ্গে আগে কখনো কম্পানিগুলো এসব পণ্যের দাম বাড়ায়নি। ’

বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্টের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন কম্পানির ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের টুথপেস্টের দাম পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে ৫০০ গ্রাম ওজনের থালাবাসন ধোয়ার তরল সাবানের দাম ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর ভাটারা এলাকার সাইফুজ্জামান নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংসসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। সঙ্গে বাড়ছে দৈনন্দিন ব্যবহারের সাবান, টুথপেস্টসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে কষ্টে আছি আমরা। ’

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যার কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সেই পরিমাণ দাম বাড়ানো হয়নি। ’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দামই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তবে কিছুদিন ধরে আবার এসব পণ্যের কাঁচামালের দাম কিছুটা কমতে শুরু হয়েছে। দাম এভাবে কমতে থাকলে দেশের বাজারেও আমরা দাম কমিয়ে দেব। ’

দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় বেশ কিছু কারণে প্রকটভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া, পণ্যের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান হ্রাসের মতো বিষয়গুলো অন্যতম। তাই কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে।



সাতদিনের সেরা