kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আওয়ামী লীগ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার : তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ১৫:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আওয়ামী লীগ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ রচিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। শান্তির দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে কেউ যেন শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা জেএম সেন হল থেকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ রচিত হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার জন্য।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল ও পক্ষ আছে, যারা সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে রাজনীতি করে। তারা নির্বাচন এলে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেয়, আওয়ামী লীগকে গালাগাল করে বলে আমরা হিন্দুদের দল। আমরা সব মানুষের দল, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব মানুষের দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী মহাশোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্রী মাইকেল দের সভাপতিত্বে মহাশোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী সুকুমার চৌধুরী প্রমুখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তারা সময়ে সময়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালায়। এই সাম্প্রদায়িক উসকানি যখনই যারা দিয়েছে, আমাদের সরকার সব সময় কঠোর হস্তে দমন করেছে। আর নির্বাচনের সময় যারা সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেয়, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়, মধুর মধুর কথা বলে, তাদের আপনারা চেনেন। সুতরাং সময় এলে তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে আছে, গত দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, আমি সেদিন অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। পরদিন আমি নিজে ছুটে গিয়েছি রংপুরে। কারণ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমি রংপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত। এভাবে দেশে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হয়।

আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে এই দেশ রচিত হয়েছে। এই দেশ আপনাদের, আপনারা কেউ হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। এই দেশের মাটিতে আপনারা জন্মগ্রহণ করেছেন, কেউ আঘাত হানলে প্রতিরোধ করবেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে থাকবে, সরকার আপনাদের পাশে আছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, শোভাযাত্রাসহকারে জন্মাষ্টমী উদযাপন চট্টগ্রামে যেভাবে হয়, বাংলাদেশের আর কোথাও এভাবে হয় না। ছোটবেলা থেকে এই উৎসবে আমিও শামিল হয়েছি। চট্টগ্রাম ছাড়াও এই উৎসব অনেক জায়গায় হয়, কিন্তু এ রকম জৌলুসপূর্ণ উৎসব কোথাও হয় না। সুতরাং চট্টগ্রামের এই অনুষ্ঠান অবশ্যই জাতীয় অনুষ্ঠান। জাতীয় অনুষ্ঠান বলেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী এখানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে যখন দুর্গাপূজা হয় এই শহরে কেউ বিমানে কিংবা বাসে এলে বুঝতে পারে এই শহরে একটি উৎসব চলছে। ঢাকাসহ অন্য শহরে সেটি বোঝা যায় না। এ জন্য চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আমি গর্ব করি। কারণ আমরা চট্টগ্রামের মানুষ নিজেদের দশ টাকা থাকলে আরো দশ টাকা ধার করে খরচ করি। সে জন্য আমাদের উৎসব অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় অনেক বেশি হয়।

এরপর দুপুরে তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলার জঙ্গল সলিমপুর ও তৎসংলগ্ন মৌজাগুলোর খাস জায়গায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নসংক্রান্ত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

মতবিনিময়সভা শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ৩২০ জন রোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা