kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আওয়ামী লীগ নেতারা সন্ত্রাসের ভাষায় কথা বলছেন : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ২১:৩৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আওয়ামী লীগ নেতারা সন্ত্রাসের ভাষায় কথা বলছেন : ফখরুল

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশে সংঘটিত গুম-বিচারবহির্ভূত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারেরে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

ফখরুল বলেন, ‘ছয় শর অধিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা বিভিন্ন সিভিল সোসাইটির মানুষ, শ্রমিক নেতা তাদেরকে গুম করা হয়েছে। বেশির ভাগকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এগুলোর কোনো সদুত্তর আমরা পাইনি, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা পায়নি। একটা লোককে রাষ্ট্র গুম করবে, তার সমস্ত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হবে, তার পরিবারের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে―এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের অপরাধ অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। ’

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের বক্তব্যকে সংগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলোর সুষ্ঠু স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে এবং সেই সঙ্গে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, তাদের বিচার হতে হবে। তিনি কিন্তু র‌্যাবের নামও উচ্চারণ করেছেন। র‌্যাবের মাধ্যমে এগুলো হয়েছে বলে তাদের ইনভেস্টিগেশনে যতটুকু এসেছে। এ বিষয়ে আমরা বলেছি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন ইনভেস্টিগেশন চাই, ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে সেগুলো উৎঘাটন করতে চাই এবং যারা এসবের সাথে জড়িত, যেসব সংগঠন জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমরা জানিয়েছি। ’

‘গুম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ বেশির ভাগই রাজনৈতিক’―ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা তো এ কথা বলবেনই। তারা তো স্বীকার করবেন না। তবে কালকে উনার (ওবায়দুল কাদের) বক্তব্য যেটা দেখলাম। উনি বলেছেন ‘জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই’ এসব গুম-অপহরণ হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো বিচার করবার। তার মানে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তাহলে স্বীকার করছেন যে সংঘটিত হয়েছে। সেখান থেকে বোঝা যায় এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আপনারা তো নিশ্চয়ই পুলিশ অফিসারদের বক্তব্যগুলো শুনেছেন। এর আগে তারা বলেছেন, অনেকে হারিয়ে যায়, অনেকে পারিবারিক কারণে লুকিয়ে থাকে―এই ধরনের কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু এগুলো প্রমাণিত হয়ে গেছে, বিশেষ করে নেত্র নিউজের যে প্রতিবেদন বেরিয়েছে সেই প্রতিবেদনে আরো বেশি প্রমাণিত হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্র এর সঙ্গে জড়িত, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই গুম হওয়া, অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়ানো হয়েছে। ”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার যে বিবৃতি দিয়েছেন আমাদের এত দিন যে দাবি সেটাই প্রমাণিত হয়েছে আবারও। আমরা যেটা এত দিন বলে আসছি এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এনফোর্স ডিস-অ্যাপিয়ারেন্স এবং এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং চলছে। উনার (জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার) বিবৃতিতে আছে শর্ট টার্ম ও লং টার্ম ডিস-অ্যাপিয়ারেন্স হয়েছে। উনি পরিষ্কার করে বলেছেন আমাদের কর্মীরা মানে জাতিসংঘের কর্মীদের ফাইন্ডিংসগুলো হচ্ছে এভাবে গুম হয়ে গেছে, এভাবে ডিস-অ্যাপিয়ার করেছে। ’

‘তার বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে এসব উনারা আমলে নিয়েছেন কি না। এমনকি তারা এটাও বলেছেন যে, এসব ঘটনা ইনভেস্টিগেশন করার জন্য নতুন একটি টিম আসবে। তারা আশা করেন সরকার তাদের অনুমতি দেবে। আপনারা জানেন, এর আগে কয়েকবার হিউম্যান রাইটস কমিশন আসতে চেয়েছিল। সরকার তাদেরকে বাধা দিয়েছে, তাদেরকে আসতে দেয়নি। এবার তাদেরকে আসতে দিয়েছে’, বলেন ফখরুল।

সরকার নতুন এলিট শ্রেণি তৈরি করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব কিছু ভুলে গেছে তারা। শুধু নিজেদের স্বার্থ হাসিল করলে চলে। রাষ্ট্রকে দখলে রাখতে একটা নতুন এলিট ক্লাস তৈরি করেছে তারা। সেই এই এলিট ক্লাসে কিছু আমলা আছে, কিছু রাজনীতিবিদ আছে, কিছু টেকনোক্রেট আছে সব মিলিয়ে তাদেরকে দিয়ে একই ভাষায় কথা বলায় এবং কথা বলছে।

গতকাল আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষাকে ‘সন্ত্রাসের ভাষা’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকালের সমাবেশে তারা হুংকার দিয়েছেন। বলা যেতে পারে হুমকি দিয়েছেন বিভিন্নভাবে। এটাই তাদের চরিত্র। এভাবে তারা সব সময় বিরোধী দলকে দমন করতে চায় এবং যে ধরনের ভাষা তারা ব্যবহার করেছে সেই ভাষা সম্পূর্ণ সন্ত্রাসের ভাষা। সেই ভাষা হচ্ছে পুরোপুরিভাবে বিরোধী দলকে ভয় দেখানো, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা। তারা পরিষ্কার করে এমনও কথা বলেছে, বেরোতে দেওয়া হবে না, গলিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ’

তিনি এর সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশটা কারো পৈতৃক সম্পত্তি না। আমরা সংবিধান অনুযায়ী আমাদের যতটুক করার চেষ্টা করবে। তারা তো দেড় যুগ ধরে তো বাধাই দিচ্ছে, রাস্তায় তো দাঁড়াতে দেয়নি কোনো দিন। এখন কী কারণে হঠাৎ করে রাস্তায় দাঁড়াতে দিয়েছে কয়েকটি, তারপর আসল চরিত্র কী দাঁড়াবে কয়েক দিন পরেই দেখা যাবে। এমনি তো দেখেছেন গত কয়েক দিন যাবৎ খুলনাসহ কয়েকটি জেলায় কিভাবে তারা আক্রমণ করেছে দলের কার্যালয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপরে। ’

এই মুহূর্তে সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘সংলাপের কোনো পরিবেশ বাংলাদেশে নেই। এখানে রাজনৈতিক যে সংকট তার সমাধানই সম্ভব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত হবে, যতক্ষণ না মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, যতক্ষণ না এই সরকার পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, সংসদ বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংলাপের প্রশ্নই উঠবে না। ’

এ সময় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব।



সাতদিনের সেরা