kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১৯:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের দাবি

সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সরকার সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু চার বছরেও প্রণয়ন হয়নি এর বিধিমালা। আইনের সঠিক বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন আবশ্যক। এতে করে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন বিধিমালার দ্রুত প্রণয়নের দাবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসোর্চের বাংলাদেশ পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরীসহ সাংবাদিকবৃন্দ ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেইফটি প্রকল্পে কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভার আলোচকরা বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণ দুর্ঘটনার পাশাপাশি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় শুধু যে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তা নয়। প্রতিটা মৃত্যুর সঙ্গে পথে বসছে একেকটি পরিবার। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাঁতরাচ্ছে। অনেকে পঙ্গু হয়ে যন্ত্রণাময় জীবন যাপন করছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত। ঘুরে ফিরে নির্দিষ্ট কিছু কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সময় সংশ্নিষ্টরা এ নিয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্ত বাস্তবে সেগুলোর দৃশ্যমান কোনো প্রয়োগ চোখে পড়ে না।

সভার আলোচক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে বর্তমান যে আইনটি আছে তার অনেক দুর্বল দিক রয়েছে যার ফলে এর সঠিক বাস্তবায়ন বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আবার যাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব তাও সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ এ সংক্রান্ত বিধিমালা এখনোও পর্যন্ত প্রণয়ন হয়নি। বর্তমান সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইনে দুর্বল দিকগুলো নিরসন করা দরকার। আর এই মুহূর্তে বর্তমান আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন একান্ত জরুরি।

সভার সভাপতি ইকবাল মাসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। আইনের দুর্বল দিক, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া, উপযুক্ত আইন প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বাধা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও আমাদের সচেতনতার অভাবের কারণে সড়ক দুর্ঘটনারোধ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, দেশের যে কোন উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমি অন্যতম ও অনস্বীকার্য। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়নে গণমাধ্যম যেভাবে এগিয়ে এসেছিল ঠিক একইভাবে গণমাধ্যম এগিয়ে আসলে বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন হবে।

সভার সভাপতি ইকবাল মাসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। আইনের দুর্বল দিক, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া, উপযুক্ত আইন প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বাধা, সরকারের সদিচ্ছা ও সচেতনতার অভাবে সড়কে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, দেশের যে কোনো উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অন্যতম ও অনস্বীকার্য। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়নে গণমাধ্যম যেভাবে এগিয়ে এসেছিল ঠিক একইভাবে গণমাধ্যম এগিয়ে আসলে বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন হবে।

মূল বক্তা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেইফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান তার প্রবন্ধে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচটি রিস্ক ফ্যাক্টর, সড়ক দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট, আইনের দুর্বল দিক ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি গত কয়েক মাসের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। শুধুমাত্র গত জুলাই মাসেই দেশে ৬৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩৯ জন নিহত এবং দুই হাজার ৪২ জন আহত হয়েছে জানান। শারমিন রহমান বলেন, অন্যদিকে এপ্রিল মাসে ৪২৭টি দুর্ঘটনায় ৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়। যা আমাদের ভাবায়। তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার হার ও মৃত্যু বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। যার মধ্যে অন্যতম হলো বিধিমালার দ্রুত প্রণয়ন।

এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেইফটি প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি অফিসার (পলিসি) ডা. তাসনিম মেহবুবা বাঁধন ও অ্যাডভোকেসি অফিসার (কমিউনিকেশন) তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা