kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

১৩ বছরে ঢাকা ওয়াসার এমডি কত টাকা নিয়েছেন, হিসাব চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১৮:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৩ বছরে ঢাকা ওয়াসার এমডি কত টাকা নিয়েছেন, হিসাব চান হাইকোর্ট

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পর গত ১৩ বছরে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসার) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান মোট কত টাকা বেতন, উৎসাহ ভাতা, টিএডিএসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তার হিসাব চেয়েছেন হাইকোর্ট।  

আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এসবের হিসাব হলফনামা করে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানির পর আজ বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি লঙ্ঘন করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে তাকে অপসারণ করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচলকের পদ থেকে অপসারণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতেও রুল জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকা ওয়াসা ও ওয়াসা বোর্ড ও তাকসিম এ খানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদলতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ জুলাই বা তার পর যারা সরকারি, স্বশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন বেসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবে তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেলের বিধান কার্যকর হবে।

পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন-১৯৯৬ সালের ২৮(৪) উপ-ধারা অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের এখতিয়ার আছে, তার বেতন ও অন্যান্য ভাতা নির্ধারণ করার। কিন্তু সেটি করার জন্য কোনো নীতিমালা নেই। সে ক্ষেত্রে সরকারের ২০১৬ সালের সার্কুলার ও জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ীই তার বেতন-ভাতা নির্ধারণ হওয়ার কথা। কিন্তু তাকসিম এ খানের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।

রিটে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের অক্টোবরে তাকসিম এ খান ওয়াসার এমডি হিসেবে তিন বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ পান। তখন তাঁর সর্বমোট মাসিক বেতন ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন ছিল ৬০ হাজার টাকা। অন্যান্য খাতের মধ্যে বাড়িভাড়া ২০ হাজার, উৎসব ভাতা ১০ হাজার, মেডিক্যাল ও বিনোদন ভাতা চার হাজার এবং বিশেষ ভাতা ২২ হাজার টাকা। তার সঙ্গে চুক্তিতে বলা ছিল, বেতন বাবদ প্রদেয় আয়কর তাকসিম এ খানকেই দিতে হবে। এরপর ২০১০ সালে ওয়াসার এমডির বেতন দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ওয়াসা বোর্ডের ২৩১তম সভায় এমডির বেতন নির্ধারণ করা হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। এক লাফে এমডির বেতন বাড়ে আড়াই লাখ টাকা, যা কার্যকর হয় ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে।

পরে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৭২তম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বরে। ওই সভায় এমডির পারিশ্রমিকসহ সুযোগ-সুবিধা, বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি দুই দফায় বৈঠক করে এমডির বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৭৬তম সভায় কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে এমডির বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয় ছয় লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার মূল বেতন দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকা। উৎসব ভাতা ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা, বাড়িভাড়া ৩৫ হাজার, চিকিৎসা ও আপ্যায়ন ভাতা ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা, বিশেষ ভাতা এক লাখ ৮০ হাজার ৬৬ টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা চার হাজার ৭৬৭ টাকা।

এ খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে গত ২০ মার্চ বিবাদীদের উকিল নোটিশ দেয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় গত ৩১ জুলাই হাইকোর্টে রিট করা হয়।



সাতদিনের সেরা