kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তেল আমদানির উৎস অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০১:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তেল আমদানির উৎস অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কাজ শুরু করছে। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে নির্দেশনা এসেছে। আমরা অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যে সম্ভাব্যতা আছে, সেগুলো অবশ্যই অনুসন্ধান করব।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘ভারতের যে সক্ষমতা আছে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার, সেটির সক্ষমতা যদি আমরা করে নিতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা আনতে পারব। তবে সেটি হয়তো সময়সাপেক্ষ। হয়তো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং আমাদের পরিশোধনাগারগুলো উন্নত করার কাজ করবেন। ’

ভারত থেকে তৃতীয় দেশ হিসেবে রাশিয়ার তেল আমদানির সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের (পররাষ্ট্র) পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে এটি বলা হয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে কি না, আমি জানি না। ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে রাশিয়ার তেল আমদানিতে সমস্যা হতে পারে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘অনেকে নিচ্ছে। তৃতীয় দেশ হিসেবে অনেকে নেয়। কিন্তু আমি যত দূর শুনেছি, পরিশোধনাগারের একটি সীমাবদ্ধতা আছে। এটি যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে আমাদের পক্ষেও আনা সম্ভব হবে। ’

এ ক্ষেত্রে কিভাবে অর্থায়ন হবে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঠিক করবে। ’

রাশিয়ার তেল আমদানি করলে বাংলাদেশ ঝুঁকিতে পড়বে কি না—সাংবাদিকরা আবারও জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সেটি এখনো অনেক দূরের বিষয়। সবে আমাদের অনুসন্ধান করার কথাটা এলো। সুতরাং আমরা অনুসন্ধান করে দেখব। যদি সেই ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকে, তবে অন্য যে বিকল্প সুযোগ আছে, সেটি দেখব। ’

রাশিয়ার বাইরে অন্য কোন কোন দেশ থেকে তেল আনা যাবে জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওরাও (সৌদি আরব) দিতে প্রস্তুত আছে। কাতারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো আছে। আমরা এলএনজি আমদানি করি। সুতরাং আমাদের বিকল্প অনেক আছে। ’

জ্বালানি তেলের বড় উৎস ইরান থেকে তেল আমদানি করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি আরেকটি বিকল্প সুযোগ। ইরানের ওপরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর একটি আলোচনা চলছে। যদি এর ফল ইতিবাচক হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞাগুলো দ্রুতই তুলে নেওয়া হবে। তখন আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ইরানের তেল এখানে কতটুকু পরিশোধন করা যাবে, সেটি দেখতে হবে। ’ 

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখন পর্যন্ত আমরা তেল আমদানি করি। যেটা হাতে আছে সেটাই আমাদের সংহত করা উচিত। সেটি যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। ’



সাতদিনের সেরা