kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সিট্যুয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালিত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ২৩:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিট্যুয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালিত

মিয়ানমারের সিট্যুয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালন করেছে। সিট্যুয়েতে গৃহযুদ্ধ ও অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মিশন প্রধান জাকির আহমেদ ও কনস্যুলেটের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে অর্ধনমিত পতাকার সঙ্গে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর মিশন প্রধান জাকির আহমেদ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বিজ্ঞাপন

আগত অতিথি এবং কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তারা জাতির পিতা, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর মিশনের কর্মকর্তারা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী নেতৃত্ব ও অবিস্মরণীয় কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

শোক দিবসের এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিবেকানন্দ ভট্টামিশ্র এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রিকার্ডো মায়া বক্তব্য রাখেন। ভারতীয় কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি বিশ্ব নেতা।  
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামকে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে এক সংগ্রামের এক বিস্ময়কর উপাখ্যান বলে উল্লেখ করেন।

মিশনপ্রধান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ১৫ আগস্টের এই দিনটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ও কলঙ্কজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।  

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তাঁর আদর্শ ও স্বপ্নকে ঘাতকরা কখনোই হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্যগতিতে উন্নয়নের শিখরে আরোহনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’।  

মিশনপ্রধান বলেন, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কূটনীতি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবনীয় উন্নতি ও সাফল্য লাভ করেছে। মিশন প্রধান আজকের এই শোক দিবসের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উন্নত দেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার আহবান জানান।

ভারতীয় কনস্যুলেটের কূটনীতিক, জাতিসংঘ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা, রাখাইন স্টেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিসহ রাখাইনের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।  

অনুষ্ঠানে শেষে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত সুখ সমৃদ্ধির কামনায় মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



সাতদিনের সেরা