kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেলাই করা খোলা মুখ

আইন আছে, প্রয়োগ নেই এ অবস্থা আর কতকাল?

মোফাজ্জল করিম   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০৫:০৩ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



আইন আছে, প্রয়োগ নেই এ অবস্থা আর কতকাল?

ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা এই পথে মাসে না হলেও দেড়-দুই মাসে অন্তত একবার আমাকে যাওয়া-আসা করতে হয়। ফলে এই হাইওয়ের হাল-হকিকত আমার মোটামুটি জানা। রাস্তার গুণগত মান দেশের অন্যান্য জনপথের তুলনায় একেবারে খারাপ না, বরং ভালোই বলা চলে। সমস্যা অন্য জায়গায়।

বিজ্ঞাপন

প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায়ই ৮-৯ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর প্রধান কারণ নামে হাইওয়ে হলেও এই জনপথে ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এমনকি রিকশাও—যার প্রায় সবই ব্যাটারিচালিত। এরা চলে মোটরযানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এর চালকের বসার ভঙ্গিটা দেখার মতো। বাঁ পা-টা যথারীতি পেডাল বরাবর ঝোলানো থাকলেও ডান পা-টি থাকে পুরোপুরি মোড়ানো। ওই অবস্থায় চালককে দেখলে মনে হয় তিনি তাঁর বৈঠকখানায় আয়েশ করে বসে ইয়ার-বকশিদের সঙ্গে আলবোলায় তামাক টানতে টানতে আড্ডা দিচ্ছেন। যে গতিতে তাঁর যানটি হাইওয়ের ওপর দিয়ে চলে তা আর যা-ই হোক আমাদের পরিচিত দু’পায়ে কষে পেডাল মারা রিকশাচালক কল্পনাও করতে পারবেন না। ব্যাটারিচালিত রিকশা তো নয়, যেন আরবি তাজি ঘোড়া ছুটে চলেছে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে ঢাকা-সিলেট পথে ভুলতা পার হয়ে নরসিংদীর বিখ্যাত মাধবদী বাজার হয়ে পাঁচদোনা-নরসিংদী-ভেলানগর-ইটাখলা পথে গেলেই দেখবেন ওই সব যানবাহনের চালক সাহেব কেমন মোগল বাদশাহ সেজে সিংহাসনে হাঁটু মুড়ে বসে আছেন, আর তাঁর পেয়ারা বাহনটি সিটে বসা যাত্রীদের পিলে কাঁপিয়ে হাইওয়ে দিয়ে ছুটে চলেছে। যেন পাল্লা দিচ্ছে হাইওয়ের খানদানি মালিক ট্রাক সাহেব-বাস সাহেবের সঙ্গে। অথচ রিকশা (ব্যাটারি অথবা নো-ব্যাটারি), বাইসাইকেল, ঠেলাগাড়ি, গরুর গাড়ি ইত্যাদির চলাচল আইনত নিষিদ্ধ হাইওয়েতে। সেই আইন মানা হচ্ছে কি না দেখার জন্য আছে হাইওয়ে পুলিশ নামক বিশেষ বাহিনী। এই বাহিনীর জন্ম খুব বেশিদিন আগে হয়নি। এদের দায়িত্ব পালন করার কথা জনপথে। কিন্তু রাস্তায় এদের দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। ফলে যেখানে হয়তো সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে যাওয়ার কথা, সেখানে বাসচালক-ট্রাকচালকরা তো বটেই, এমনকি ‘কার’চালকরাও চলেন ফরমুলা ওয়ান-এর ড্রাইভারের মতো।

এখানে একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। হাইওয়েতে যেসব বাস চলে এর সবই কোনো না কোনো কম্পানির মালিকানাধীন। দু-একটি বাস কম্পানি আবার এতই শক্তিশালী যে তাদের চালকরা রাস্তা দিয়ে চলেন তাঁদের নিজস্ব নিয়মমতো, দেশের আইন-কানুনের বড় একটা ধার তাঁরা ধারেন না। অন্য কোনো যানবাহন তাঁদের সাইড না দিলে তাঁরা রীতিমতো গোস্বা হন এবং ভাব দেখান এমন যে ‘দাঁড়া, এখন তোরে ছাইড়া দিলাম, এরপর পাইয়া লই, অ্যায়সা বাটাম দিমু...’ ইত্যাদি। রাস্তায় এসব কম্পানির বাসের ছায়া দেখলেই অন্যরা রীতিমতো সালাম জানিয়ে ‘পাস’ দিয়ে দেয়। যেন হেডমাস্টার স্যারের সামনে পড়ে গেছে ক্লাস সেভেনের ছাত্রটি। অথচ আইন-কানুন সবার জন্য সমান। এগুলো দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর। হাইওয়ে পুলিশ বাহিনীটি সৃষ্টিই করা হয়েছে এই জন্য, ঘরে বসে রিমোট কন্ট্রোলে রাস্তার ট্রাফিক দেখার জন্য নয়। জনপথে যদি পুলিশ, বিশেষ করে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা আরো দৃষ্টিগোচর হতো, যদি নির্দিষ্ট গতিসীমার বেশি স্পিডে যাঁরা গাড়ি চালান, যাঁদের গাড়ির এবং চালকের কাগজপত্র নেই অথবা থাকলেও ত্রুটিপূর্ণ, তাঁদের বিরুদ্ধে যদি অকুস্থলে (অন দ্য স্পট) আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা অবশ্যই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এই যে হঠাৎ করে চলন্ত বাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা এত বেড়ে গেছে তা-ও কিন্তু বন্ধ করা যেত যদি রাতের বেলা বিভিন্ন স্টপেজে পুলিশ আচমকা তল্লাশি চালাত। এই প্রস্তাবটি শুনেই আমি জানি কোনো কোনো স্মার্ট পাঠক ভুরু কুঁচকাচ্ছেন, তাঁরা বলবেন, ‘হুঁ, এমনিতেই নানা অজুহাতে পুলিশ ড্রাইভারদের ছুলাতে বাকি রাখে না, তার ওপর রাতে-বিরেতে যদি বাসে চেকিংয়ের সিস্টেম চালু করেন, তাহলে তো পুলিশের পোয়াবারো। ’ হ্যাঁ, পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তো সেই আদ্যিকাল থেকেই আমরা শুনে আসছি। এটা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তাও নয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি এভাবেই চলতে থাকবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত? আমরা একদিকে আমাদের মাথাপিছু আয় নিয়ে, শিক্ষিতের হার নিয়ে, পদ্মা সেতু নিয়ে (সংগত কারণেই) বড়াই করব, অন্যদিকে আমাদের মেয়েরা বাসে-ট্রেনে চড়ে নির্ভয়ে সম্ভ্রমে চলাফেরা করতে পারবে না, এটা কেমন কথা? আর তাও যদি হতো এটা চলে আসছে সেই ব্রিটিশ আমল-পাকিস্তানি আমল থেকে, তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু না, ওই সব আমলে যানবাহনে নারীদের শ্লীলতাহানি বা গুণ্ডা-বদমাশদের যথেচ্ছ আচরণ ছিল না বললেই চলে। আর এখন? এখন এসব অপরাধ সংঘটিত হয়নি এমন দিনের দেখা পাওয়া যায় না। আর দিন দিন এসব অপরাধ যেন বেড়েই চলেছে।

মহাসড়কে মাঝে মাঝেই সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্দেশক সাইন দেখা যায়। কোথাও ৫০, কোথাও ৬০, কোথাও ৮০ কিলোমিটার ইত্যাদি। কিন্তু এসব কাউকে বড় একটা মানতে দেখা যায় না। রাস্তা একটু ফাঁকা পেলে ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে কার-বাস চালানো কোনো ব্যাপারই না। অথচ ওই পথে হয়তো সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিমি লেখা সাইনবোর্ড ঠিকই লাগানো আছে। কোনো কারণে কোথাও যদি পুলিশ কখনো সব গাড়ি থামিয়ে চেক করতে থাকে কিংবা মোবাইল কোর্ট বসানো হয়, তাহলে বাস-ট্রাক-কার চালকের সবাই সুবোধ বালকের মতো থেমে যান এবং বিনয়ে বৈষ্ণব সেজে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশমতো কাগজপত্র দেখান। কিন্তু স্পিড ডিটেক্টর মেশিন বসিয়ে চলন্ত যানবাহনগুলোর গতি রেকর্ড করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কাউকে গতিসীমা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। উন্নত দেশগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকায় চালক আসলে কত মাইল বা কত কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তা মেশিনে রেকর্ড হয়ে যায়। তখন আর পুলিশ ও চালককে গতিবেগ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতে হয় না। আমাদের প্রধান মহাসড়কগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করা উচিত।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অনেক স্থানেই জরুরি রোড সাইনের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। ফলে রাস্তাটি কোথায় মোড় নিচ্ছে, কোথায় সামনে সরু পুল, রাস্তা কোথায় উঁচু-নিচু ইত্যাদি অতীব জরুরি তথ্য ও নির্দেশনা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চালক। আর মাইলফলক বসানো হয়েছে যেন খেয়ালখুশিমতো। অনেক জায়গায়ই মাইলের পর মাইল কোনো মাইলফলক নেই। অনেক ফলক আবার সংস্কারের অভাবে এতই জীর্ণ, শেওলা আচ্ছাদিত যে চলন্ত যানবাহন থেকে ওটার লেখার পাঠোদ্ধার করা অসম্ভব। তবে আলোচ্য মহাসড়কটিতে (সারা বছর) নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে দেখা যায়। এ ব্যাপারে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। অভিজ্ঞ পাঠক যা বোঝার ঠিকই বুঝতে পারছেন।

আরেকটি যানবাহনের কথা তো বলাই হয়নি। অথচ বাংলাদেশের শহরে-নগরে-বন্দরে ইদানীং এরাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হ্যাঁ, শব্দার্থেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পাঠক ঠিকই বুঝতে পেরেছেন আমি মোটরসাইকেলের কথা বলছি। এই ক’দিন আগেও মহাসড়কে তো নয়ই, এমনকি শহরে-বন্দরেও এদের এত প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। গত দু-তিন বছরে বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর। আগে একসময়, তা মনে করুন স্বাধীনতার আগে, মোটরসাইকেলকে মনে করা হতো একটি বিলাসপণ্য। তখন জাপানি ভেসপা, হোন্ডা, সুজুকি ইত্যাদি হাতে গোনা কয়েকটি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেখা যেত ঢাকার রাস্তায়। চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ইত্যাদি শহরেও নব্য চাকুরে, তরুণ কলেজপড়ুয়া ছাত্র এবং বিত্তশালী মা-বাবার আদুরে দুলালদের এগুলো এস্তেমাল করতে দেখা যেত বেশি। তখনো ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট বাংলাদেশে আসেনি। তবে মেজর মার্কেট শেয়ার ছিল জাপানি হোন্ডার। ফলে এমন দাঁড়াল, মোটরসাইকেল বা মোটরবাইক কথাটির সমার্থক হয়ে দাঁড়াল হোন্ডা। অমুককে দেখলাম হোন্ডা চড়ে যাচ্ছে। আসলে ভেসপা ছিল ওটা। কিন্তু মোটরসাইকেলের প্রতিশব্দ হয়ে গেল হোন্ডা।

স্বাধীনতার পরে একটা জোক বেশ চালু হয়েছিল হোন্ডা শব্দটি নিয়ে। মফস্বল শহরের দুই রাজনৈতিক কর্মী এসেছেন ঢাকায় তাঁদের এলাকার মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের মতলব, মন্ত্রী মহোদয়কে বলে-কয়ে তাঁদের এলাকার জন্য কিছু রিলিফের গম, টিন ইত্যাদি বাগানো। কারণ সামনে ইলেকশন। অতএব কিছু দান-খয়রাত না করলে পার্টির অবস্থার উন্নতি হবে না। মন্ত্রী বললেন, ‘শোন। আমার কাছে চাউল-গম-টিন এগুলো কিচ্ছু নেই। আর আজকাল এগুলো বিলিয়ে ভোট আসবে না। জমানা বদলে গেছে। তার চেয়ে তোরা দশটা হোন্ডা, আর হোন্ডাপ্রতি দুইটা করে বিশটা গুণ্ডা জোগাড় কর। তাহলেই দেখবি কেল্লা ফতে। ’

তা বাংলাদেশে গুণ্ডাদের দৌরাত্ম্য তো বহুদিন ধরেই আমরা দেখে আসছি। কিন্তু হোন্ডা মোটরসাইকেল অন্য সব ব্র্যান্ডকে খেদিয়ে মাঠ দখল করলেও দেশের আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতার কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে হঠাৎ করেই এই দ্বিচক্রযানের ব্যবহার বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। ঢাকার যেকোনো রাস্তায় এদের যন্ত্রণায় পা ফেলার উপায় নেই। বরং পা ভাঙা, হাত ভাঙা, এমনকি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মোটরসাইকেলচালকের বেপরোয়া গতিতে সাইকেল চালানো, সার্কাসের খেলোয়াড়ের মতো কসরত দেখানোর চেষ্টা, একটা সাইকেলে তিন-চারজন গাদাগাদি করে বসা—এসবই হচ্ছে দুর্ঘটনার কারণ। মোটরসাইকেল এখন মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের প্রিয় বাহন। একটি সাইকেলে দেখা যায় ৩০-৩২ বছর বয়সী এক যুবক চালকের আসনে বসে বাইকটি চালানোর দায়িত্ব পালন করছেন, ঠিক পেছনে তাঁর কটিদেশ জাপটে ধরে বসেছেন ভদ্রলোকের সুখ-দুঃখের সাথি ‘ওগো’টি, আর তাঁদের বছর দেড়েকের কনিষ্ঠ সন্তান দুজনের মাঝখানে স্যান্ডউইচ হয়ে বসে আছে। আর বাইকচালক বাবার সামনে প্ল্যাকার্ডের মতো বসে আছে তিন বছরের জ্যেষ্ঠ সন্তানটি। তার প্রতি যদিও নির্দেশ ‘নট নড়নচড়ন, নট ইস্টেট নাথিং’ (আমাদের ছেলেবেলার মার্বেল খেলার শ্লোক), তবু সে সুযোগ পেলেই এটা-ওটা ধরার চেষ্টা করছে এবং বাবার ধমক খাচ্ছে। এ ধরনের পারিবারিক মোটরসাইকেল ভ্রমণে বলার অপেক্ষা রাখে না যেকোনো মুহূর্তে অশুভ কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু না, আমাদের ‘বজ্রাদপি কঠোরানি মৃদুনি কুসুমাদপি’ পুলিশের সেদিকে খেয়াল নেই। আর বাইকের মালিকরাও যে কেমন। রোজ এত এত লোক অকালে পরপারে চলে যাচ্ছে বাইকে চড়ে, তবু একটু সতর্ক হওয়ার নাম নেই। লক্ষ্য শুধু একটাই : কী করে সাপের মতো প্যাঁচ খেলে খেলে ভিড়ের মধ্যে সবাইকে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়া যায়।

এই সবাইকে ডিঙিয়ে যাওয়ার মারণখেলা দেখা যায় হাইওয়েগুলোতেও। সেখানে যাত্রীবোঝাই বাসগুলো উন্মাদের মতো ছুটে চলে একটি আরেকটিকে পেছনে ফেলে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায়। মনে হয় যেন ড্রাইভাররা নেশার ঘোরে গাড়ি চালাচ্ছেন।

ফিরিস্তি আর লম্বা করব না। হাইওয়েতে যে জিনিসটার সবচেয়ে বেশি অভাব সেটা রোড ডিসিপ্লিন। গাড়ি চালানোর মৌলিক নিয়ম-কানুনগুলোকে বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা (ইদানীং বাস ড্রাইভাররাই সড়কের রাজা), আগে ট্রাক ড্রাইভাররাই মাস্তানি করতেন বেশি, এখন তাঁদের মধ্যে কিছুটা শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে মনে হয়। বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাড়ি চালান। আর এগুলো যাঁদের দেখার কথা তাঁরা যে কী দায়িত্ব পালন করেন খোদা জানেন। মাঠকর্মীদের কাজকর্ম সুপারভাইজ করার দায়িত্ব যাঁদের সেই মেজো সাহেব, বড় সাহেবদের কোনো দিন রাস্তায় দেখা যায় না।

আর গিবত না গেয়ে শেষ করব দু-একটি সাজেশন দিয়ে। হাইওয়েতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারকে দিলে কেমন হয়? যেমন—ক বিন্দু থেকে খ বিন্দু যে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার এলাকাভুক্ত সেই স্থানীয় সরকার পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কাজ তদারকি করবে সমন্বয়ের মাধ্যমে, ‘বসিং’ না করে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত কিন্তু আকস্মিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যানবাহন ও চালকদের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করতে হবে। তৃতীয়ত, ওভারস্পিডিং বন্ধ করার জন্য মেশিন বসাতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনা হয় বেপরোয়া ড্রাইভিং ও ওভারস্পিডিংয়ের কারণে।

সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক দুর্ঘটনার মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও শোকাবহ ঘটনাকে (যা উত্তরোত্তর ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে) আরো সিরিয়াসলি মোকাবেলা করতে হবে। আইনের লঙ্ঘন দেখা গেলে ছোট-বড়, সাদাকালো, উচ্চ-নিচ-নির্বিশেষে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাই বলে, আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো আইন আছে, আইনের কোনো অভাব নেই, সমস্যা হচ্ছে আইনের প্রয়োগ নিয়ে। এই অপবাদ দূর না করলে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শন চলতেই থাকবে, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি
[email protected]



সাতদিনের সেরা