kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর, বিচার চেয়ে মানববন্ধন

ঢাবি সংবাদদাতা   

১০ আগস্ট, ২০২২ ২১:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর, বিচার চেয়ে মানববন্ধন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক দুর্বৃত্তদের দ্বারা মারধরের শিকার হয়েছেন। সোমবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী।

মারধরকারীদের শনাক্ত করতে না পারলেও তাদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোগোওয়ালা টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ।

মারধরকারীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবিতে বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ও ঢাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের মানববন্ধন থেকে আজকের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে জানান মানববন্ধনে উপস্থিত চিকিৎসক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, শুধু ডা. সাজ্জাদ নন, অনেকের সঙ্গেই এ রকম ঘটনা ঘটে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, তা না হলে আগামীকাল থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।

চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শহীদ মিনারে অনেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসে, আড্ডা দেয়। আজকে সাজ্জাদ ডাক্তার হওয়ার কারণে হয়তো আমরা প্রতিবাদ করছি, কিন্তু অনেকেই তো সেটা করতে পারে না।

বিকেলে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্তায়ন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। খেয়াল করে দেখবেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা‌ ঘটছে, মানুষকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। মাস্তানিতে সিদ্ধহস্ত হওয়ার জন্য ক্যাম্পাসের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অপব্যবহার করে নির্যাতন, হেনস্তা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের এ পরিস্থিতি আজকের নয়।

তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসে যারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাদের কোনো বিচার হয় না। ঘটনার দুই দিন হয়ে গেল, কিন্তু এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যারা অপরাধী তাদের খোঁজার কোনো নামগন্ধ নেই। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু যারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী তারাই যে ক্ষতির শিকার হবে তা নয়, সবার স্বাধীন চলাফেরার যে অধিকার সেটা বিঘ্নিত হবে। যারা সন্ত্রাস করেছে তাদের লুকিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই, ধরা পড়তেই হবে।

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ডা. সাজ্জাদ হোসেন মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার বলেন, গতকাল রাতে ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আমরা আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো চেক করছি। এখন পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি, কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা আজকের মধ্যে শেষ হবে।



সাতদিনের সেরা