kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘মহররম মাসের সম্মানে গুনাহ ছাড়তে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০২২ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মহররম মাসের সম্মানে গুনাহ ছাড়তে হবে’

পবিত্র আশুরা ১৪৪৪ হিজরি উপলক্ষে আশুরার গুরুত্ব ও আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীর এর উদ্যোগে এই আয়োজন করেন মুসল্লি কমিটি।

এতে আলোচনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি এহসানুল হক জিলানী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহররম মাসকে সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ১২ মাসের মধ্যে ৪টি মাস হচ্ছে সম্মানিত। এই চারটি মাসের অন্যতম একটি হচ্ছে মহররম। বাকি তিনটি মাস হচ্ছে জিলক্বদ, জিলহজ্ব, রজব। এই মাসগুলোতে নিজের নফসের উপর জুলুম করা তথা গুনাহমুক্ত থাকতে বলা হয়েছে। তাই মহররম মাসের সম্মানে সকল মুমিন মুসলমানকে গুনাহ ছেড়ে দিতে হবে। ’

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মুফতি এহসানুল হক জিলানী, ‘এই মাসে একটি সম্মানিত দিন রয়েছে। যে দিনটিকে সবাই আশুরা নামে চিনি। এই মাসের ১০ তারিখ। বর্তমানে আশুরাকে কারবালা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। মহররম মাস আসলেই খালি কারবালা কারবালা। অথচ এই আশুরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা করা আছে। সব পিছনে ফেলে কারবালা কারবালা করা হচ্ছে। এসব না করে আমাদেরকে দিবস নির্ণয় করে দিবসের আমল নির্ণয় করতে হবে। রাসুল কি বলেছে, কি আমল করেছে সেগুলোর দিকে নজর করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা অস্বীকার করছি না যে কারবালার ঘটনা বাদ দিয়ে আশুরা। একটি ঐতিহাসিক দিনে বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটতেই পারে। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ঘটনা এই দিনে হওয়ার কারণে এই দিনটি জাতীর হৃদয়ে লেগে গেছে। মৌলিক ইতিহাস হচ্ছে আল্লাহ এই দিনে তামাম জাহান পৃথিবী এই দিনে আল্লাহ সৃষ্টি করেছে। এই দিনে হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনেই আবার তাঁর তওবা কবুল করেন আল্লাহ তায়ালা। এই দিনে আমাদের শিক্ষা হচ্ছে, হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর তওবা যদি আল্লাহ এই দিনে কবুল করে থাকেন, আমরাওতো সে পিতার সন্তান। তাই সন্তান হিসেবে আমরা বেশি বেশি তওবা করবো। আরো অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এই দিনে তো রয়েছেই। ’

তিনি বলেন, আশুরার দিনে কারবালায় ঘটে যাওয়া ইমাম হোসাইন (রা.) ঘটনা ও আত্মত্যাগ, অন্যায় ও জুলুমের ব্যাপারে তার আপসহীন মনোভাব উম্মতে মুসলিমার জন্য এক অনন্য শিক্ষা। এদিন ঈমানি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আশুরার রোজা রাখা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, ত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করা ও আশুরায় রোজা পালনকারীদের ইফতার করানো আমাদের একান্ত কর্তব্য। হযরত ইমাম হোসাইন রা. শাহাদতের এ দিনে তার আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে নিজ ও সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

এহসানুল হক জিলানী, ‘আমাদের প্রথম কাজ গুনাহমুক্ত জীবন করা। যে গুনাহমুক্ত জীবনে পরিণত করবে তাঁর জীবন হবে সফল এবং দামি জীবন। অবশ্যই সবার জ্ঞান অর্জন করা দরকার। কিছু স্টাডি করা দরকার। লাগামহীন জীবন চালালে হবে না। কারণ আমরা মুসলমান, তাই আমার ইসলাম আমার দ্বীনে কি রেখেছে সেটি জানতে হবে। ইসলামের জ্ঞান থাকলে নিজের জীবনটা সুন্দর হবে। আর ওই সুন্দর নিয়ে জীবনযাপন করাও সুখের বিষয়, সফলতার বিষয়। কারণ ইসলাম ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে দুনিয়ার এই জীবনের কোনো দাম নেই। ’

আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির সভাপতি হাজী মো. ইয়াকুব আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুসল্লি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানিক, সাংগাঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন গাজীসহ কিমিটির অন্যান্য সদস্য এবং মুসল্লিগণ। সভাপতির বক্তব্যে ইয়াকুব আলী বলেন, ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব সবাইকে বুঝতে হবে। না জেনে, না বুঝে কোনো আমল বা কাজ করলে আসল কাজ হয় না। ’



সাতদিনের সেরা