kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

ঢাবি সংবাদদাতা   

৯ আগস্ট, ২০২২ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ আগষ্ট) রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসকের নাম এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। মারধরকারীদের শনাক্ত করতে না পারলেও, তাদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোগোওয়ালা টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানান তিনি। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।  

এদিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে লাগাতার কর্মবিরতি সহ বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ।  

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন আমি দেখি যে, দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলো আমার জানা নেই। এক পর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, 'আমি বসে আছি। ' 

তিনি আরো বলেন, তখন তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, 'পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে। '  তখন আমি বললাম, 'সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?' এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে।  

তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, 'আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন। ' এই কথা বলার পর তারা হয়তো বুঝতে পারে যে, আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র। তখন আমি কাউকে ফোন দিয়ে এনে হয়তো ঝামেলা করতে পারি, এই ভয়ে তারা আমাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে বিদায় করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে।


"আমি চলে যাওয়ার সময় যেই পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিল এবং চলে যেতে জোর করছিল। ঠিক এই সময় কেউ একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পর দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। একারণে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে যাওয়ার পথে যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত। আমাকে ৮ থেকে ১০ জনের মতো মারধর করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিনতাই ছিল নাকি অন্যকিছু ছিল জানি না। "

মারধরকারীদের কেউ কেউ নেশাগ্রস্ত ছিলো বলে জানান সাজ্জাদ। তিনি বলেন, আমাকে মারার সময় অনেক শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছিলো না। আমাকে একজন মারার পর পড়ে যেতে দেখেছি। তাদের লক্ষণ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো যে তারা নেশাগ্রস্ত। তাদের আচার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।

মারধরকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, তাদের প্রায় সবার গায়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।

জিডির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হকের নির্দেশনায় শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেছি। বুধবার স্যারের কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ দিবো। আর পরিচালক স্যার নিজেই বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিবেন বলে আমায় জানিয়েছে।  

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ভুক্তভোগী একটি জিডি দায়ের করেছে থানায়। আমরা তা গ্রহণ করেছি। তদন্ত কার্যক্রম শুরু করছি।



সাতদিনের সেরা