kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন

সেলিম খানের কাছ থেকে চার বছরের রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০২২ ২১:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেলিম খানের কাছ থেকে চার বছরের রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ

চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজার মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খানের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা এসেছে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালু উত্তোলন সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে এ নির্দেশনা এসেছে।

মেঘনা নদীর চাঁদপুর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট করেন ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান।

বিজ্ঞাপন

নৌপথ সচল করার কথা বলে রিট আবেদনটি করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। এ রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের প্রতিবেদন চেয়ে সেলিম খান আদালতে সম্পূরক আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানির পর ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালত ৩০ দিনের মধ্যে সেলিম খানের কাছে জরিপ প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট বিবাদিকে নির্দেশ দেন। পরে রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় মেঘনার ডুবোচর থেকে ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ রায়ের চার বছর পর গত মার্চে ১ হাজার ৪৪০ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। গত ৪ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে সে আবেদন। সেদিন চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভটু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। সে ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে বিলম্ব মার্জনার আবেদন গ্রহন করে রাষ্ট্রপক্ষের লিভটু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন বিচারপতি নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন- বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।   রায়ে চাঁদপুর সদরের লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খানকে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু তোলার অনুমতি দিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার রায় বাতিল করা হয়। সে রায়টিই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়। ১৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

চার বছর আগে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টে রায়টিকে ‘গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, সরকারকে কোনো রাজস্ব না দিয়েই ২০১৬ সাল থেকে রিট আবেদনকারী (সেলিম খান) প্রশ্নাবিদ্ধ এসব মৌজা থেকে  নির্বিচারে বালু উত্তোলন করেছেন। এতে সরকার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের রায়ের তারিখ (২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল) থেকে এ আদেশের তারিখ (চলতি বছরের ৪ এপ্রিল) পর্যন্ত আবেদনকারীর (সেরিম খানের) কাছ থেকে কথিত বালু উত্তোলনের রাজস্ব আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে, বিশেষ করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিষ্ময়! 

হাইকোর্টের রায়ের পর চার বছর সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, ‘এটাও আমাদের বিস্মিত করে যে, সরকারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রুলের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সরকার পক্ষ থেকে কোনো হলফনামা দাখিল করা হয়নি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক! বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে ছিলেন। ’

কর্মকর্তাদের ভূমিকায় অসন্তেষ

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে রায়ে। এ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হেয়েছে, ‘আমরা চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করছি যারা বছরের পর বছর একত্রে ঘুমিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের সামনে দায়িত্ব পালন না করা আইন কর্মকর্তাদের আচরণেও আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি। ’

পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি হাতে পেয়েছেন জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে রাজস্ব আদায়ের যে নির্দেশনা এসেছে, তা মানা বাধ্যকামূলক। সেলিম চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চার বছরের রাজস্ব আদয় করতেই হবে। ” সে রাজস্বের পরিমাণ শতকোটি টাকার উপরে হবে বলে মনে করেন এই আইন কর্মকর্তা।  



সাতদিনের সেরা