kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবেন শেখ কামাল : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ১৮:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবেন শেখ কামাল : স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের উদীয়মান বহুমাত্রিক প্রতিভা ও মেধার অধিকারী শেখ কামাল ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও নাট্যঙ্গণে ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠিত নাট্যকর্মী, খেলোয়াড় ও সংগঠক। যে কারণে চির তারুণ্যের প্রতীক হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবেন শেখ কামাল।

শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনস্থ মিলার রোড, ইম্প্রেসান ইভেন্টস ভেন্যুতে বাংলাদেশ হাই কমিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্পিকার ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ওপর আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

তিনি আরো বলেন, শেখ কামাল সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন, নিষ্ঠা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার নজির স্থাপন করে গেছেন। আবাহনীর মতো আধুনিক ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তিনিই প্রথম বিদেশি কোচ আনার ব্যবস্থা করে দেশীয় ক্রীড়াকে বিশ্বের আঙিনায় উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চালান।

আলোচনায় স্পিকার বলেন, আগস্ট মাস বাঙালি জাতির জন্য বিয়োগান্তক শোকের মাস। এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের উদীয়মান বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামালকেও সেই কালো রাতে হত্যা করা হয়। মাত্র ২৬ বছর বয়সে শেখ কামাল নাটক, থিয়েটার, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অহংকার। তাঁর কাছে তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। শেখ কামালের কীর্তি-কর্ম অনুসরণ করে তরুণ সমাজকে ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে শান্তি ও সহণশীলতার শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ২৫ মার্চ রাতেই শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেনারেল ওসমানীর এইড-ডি-ক্যাম্প (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পড়াশোনায় ফিরে আসেন। তরুণদের নিয়ে নানান সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত হন।

স্পিকার বলেন, শেখ কামাল ছিলেন একজন আধুনিক পূর্ণাঙ্গ মানুষ। একাধারে তিনি ছিলেন খেলোয়ার, নাট্যকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী। তিনি স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন, যেটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো মিউজিক্যাল ব্যান্ড। থিয়েটার আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তিনি তার পরিবারের কাছ থেকেই এসকল অনুপ্রেরণা লাভ করেন। শহীদ শেখ কামালের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আজকের প্রজন্মকে জাতিগঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রদূত মিজ সাইদা মোনা তাসনিমের সঞ্চালনায় উক্ত আরোচনায় অংশ নেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অনুরাগী মিরাজ সাদাত, ব্রিটিশ ইউক্রেনিয়ান ক্রীড়া অনুরাগী আলবার্ট অ্যাডওয়ার্ড সালিমোভ, বিশিষ্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি মেম্বার সৈয়দ সাজিদুর রাহমান ফারুক, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাম্বাস্যাডর সৈয়দ শাহেদ রেজা, বিশিষ্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি মেম্বার সুলতান মাহমুদ শরীফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হাসান প্রমূখ।



সাতদিনের সেরা