kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

আমদানিতে কমেছে গমের দাম, কমেনি গম থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যের দাম

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৯ জুলাই, ২০২২ ১০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমদানিতে কমেছে গমের দাম, কমেনি গম থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যের দাম

সরকারি-বেসরকারি গম আমদানিতে সুখবর মিলছে। গম রপ্তানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম কমছে। এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের দরে বিক্রি হচ্ছে গম। এসব খবরে দেশে গমের বাজারে অস্থিরতা কমেছে; দাম কমেছে পাইকারি বাজারেও।

বিজ্ঞাপন

এখন খুচরা পর্যায়ে দাম কমার অপেক্ষায় ভোক্তারা।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গমের দাম এরই মধ্যে কমেছে। এই বাজারের অন্যতম বড় গম আমদানিকারক আর এম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সাহেদ উল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গমের বুকির দর কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু এর সুফল দেশের বাজারে কখন পড়বে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তির পর খাদ্যশস্য রপ্তানির সরবরাহ পথ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। ’

তিনি আরো বলেন, দাম কমার পর ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে গম আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। কমদামে গম এলে অবশ্যই বাজারে প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে দাম কমে বিক্রির আগে ডলারের বিনিময়মূল্যও স্থিতিশীল থাকতে হবে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে এই বাজারে প্রতি মণ ভারতীয় গম ৯০০ টাকা ও কানাডার গম এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। যুদ্ধ শুরুর পর ক্রমাগতভাবে দাম বেড়ে গত মে মাসে ভারতীয় গম মণপ্রতি এক হাজার ৬৫০ টাকা এবং কানাডার গম দুই হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

পাইকারি গম ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় গম বিক্রি হচ্ছিল মণপ্রতি এক হাজার ৪৫০ টাকা; কানাডার গম এক হাজার ৯৫০ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান গম বিক্রি হচ্ছিল এক হাজার ৭৫০ টাকায়। তাঁরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া চুক্তির পর দাম কিছুটা কমেছে আবার একটু বেড়েছেও। ফলে গমের বাজার স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।

ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক এ জামান অ্যান্ড ব্রাদার্সের কর্ণধার নুরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, গমের দাম কমলেই গম থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যের দাম কমবে সেটি বলা যাবে না। কারণ গমের পাশাপাশি আটা-ময়দার দামও কমতে হবে। কারণ সেগুলো দিয়েই ওই সব খাদ্যপণ্য তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘আশা করছি যেভাবে বিশ্ববাজারে দাম কমছে; তার সঙ্গে ডলার বিনিময়মূল্য, জ্বালানি তেলের দাম এবং গ্যাসের দাম কমলে অবশ্যই ভোক্তা পর্যায়ে সুফল মিলবে। ’

পণ্য বিপণনকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নাসদাক ডটকমের হিসাবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে গমের দাম ছিল টনপ্রতি ৯৩৪ ডলার। ওই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে হু হু করে বাড়তে থাকে গমসহ খাদ্যপণ্যের দাম। ৭ মার্চ গমের দামে রেকর্ড ছুঁয়ে টনপ্রতি এক হাজার ২৮৬ ডলারে বিক্রি হয়। গত ১৬ মে গমের দাম ছিল টনপ্রতি এক হাজার ২৭৭ ডলার। এর পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকে গমের দাম। সর্বশেষ গতকাল বিশ্ববাজারে গমের দাম কমে টনপ্রতি ৭৯০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল।

বিশ্ববাজারে এই দাম কমার মূল কারণ ইউক্রেন-রাশিয়া চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেন তার খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে রাশিয়ার কাছ থেকে কোনো ধরনের বাধা পাবে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে এর আগে থেকেই গমের দাম কমছিল। এর প্রধান কারণ ছিল ভারত থেকে গম সরবরাহে নিশ্চয়তা পাওয়া। বাংলাদেশের বেশির ভাগ গমই আসে ভারত থেকে। ভারত থেকে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। পরে অবশ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সেটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গম আমদানি

দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট গম আমদানি হয়েছিল ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে আমদানি হয়েছিল ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টন। আর গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বেসরকারি উদ্যোগে গম আমদানি অনেক কম হয়েছে। সেই অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার টন গম আমদানি করতে পেরেছে বেসরকারি খাত। ফলে আগের অর্থবছরের চেয়ে অন্তত ১৪ লাখ টন কম আমদানি হয়েছে গম।

গম থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে গম দিয়ে তৈরি খাদ্যপণ্যের দাম একদফা বেড়েছিল। এরপর গত মে মাসে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ দাম বাড়ে ওই খাদ্যপণ্যের। যুদ্ধ শুরুর আগে একটি ভালো মানের ৫০০ গ্রামের পাউরুটির দাম ছিল ৬০ টাকা, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

বেকারিপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ওয়েল ফুডের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গম, তেলসহ অন্য পণ্যের দাম বাড়ায় গত জুনে আমরা খাদ্যপণ্যের দাম সমন্বয় করেছিলাম। দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই পণ্য বিক্রি কমেছে। আর আমরা পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দাম বাড়ানোর কৌশল নিয়েও বিক্রি বাড়াতে পারিনি। এখন গমের দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু স্থিতিশীলতা আসেনি। ফলে দাম এখনই সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ’



সাতদিনের সেরা