kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

অধিকারের নিবন্ধন নিয়ে রুল খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুলাই, ২০২২ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অধিকারের নিবন্ধন নিয়ে রুল খারিজ

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘অধিকার’র নিবন্ধন নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নিবন্ধন নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে জানিয়ে অধিকারের আইনজীবী রিটটি না চালানোর কথা বললে বুধবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে দেন।  

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল ইসলাম।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর বৈদেশিক অনুদান গ্রহণসংক্রান্ত ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধিত অধিকার। পাঁচ বছর পর পর নিবন্ধন নবায়ন করতে হয়। অধিকারের সর্বশেষ নবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত। তার আগে চারবার অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন করে এনজিও ব্যুরো। সর্বশেষ নবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন নবায়নে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করে অধিকার।

চার বছর সে আবেদন ঝুলে থাকার পর এনজিও ব্যুরোর নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে অধিকারের পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৩ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ২০১৪ সালে করা ওই আবেদন গ্রহণের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না এবং আইন অনুসারে অধিকারকে নিবন্ধন দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে রুল জারি করা হয়।

সে রুলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত ৫ জুন এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অধিকারের আবেদন নামঞ্জুর করে। তখন নামঞ্জুর চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ জুন বিচারাধীন রুলে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করে অধিকার। সে আবেদনের ধারাবাহিকতায় বুধবার এ অধিকারের বিচারাধীন রিটের রায়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু অধিকারের আইনজীবী রিটটি না চালানোর কথা জানালে আদালত ‘রিটটি চালাবে না খারিজ করা হলো’ বলে রায় দেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ৫ জুন এনজিও ব্যুরো নিবন্ধন নবায়নের আবেদন নামঞ্জুর করে। বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দপ্তরে আপিলটা করা যাবে। সে অনুযায়ী গত ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দপ্তরে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। গত ১৯ জুলাই সচিবের দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কক্ষে এই আপিলটির শুনানি হবে। অধিকারের প্রেসিডেন্টকে সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এই কারণে আমরা রুলটা নন-প্রসিকিউশন করেছি।

হাইকোর্ট রুল খারিজের পাশাপাশি গত ১৪ জুনের সম্পূরক আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।  

১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের দুটি অধ্যাদেশ দিয়ে দেশে এনজিও কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। ১৯৭৮ সালের ওই অধ্যাদেশের অধীনেই বিদেশি অনুদান গ্রহণ করত এনজিওগুলো। ১৯৯০ সালে দেশে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইনটি করা হয়। এ আইনের অধীনে কোনো এনজিওর নিবন্ধন না থাকলে বা নিবন্ধন নবায়ন না হলে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারবে না। ১৯৯৫ সালে নিবন্ধন পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অধিকার বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারত বলে জানান সংগঠনটির আইনজীবী মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান।

 



সাতদিনের সেরা