kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

জাহাজবাড়িতে ৯ জঙ্গি নিহত, ছয় বছরেও শুরু হয়নি বিচার

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৭ জুলাই, ২০২২ ০৯:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাহাজবাড়িতে ৯ জঙ্গি নিহত, ছয় বছরেও শুরু হয়নি বিচার

‘ওরা ছাত্র পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। পরিচয় গোপন করেছিল। পরে বাড়ির মালিক জানতে পারেন, তারা সবাই ছিল জঙ্গি। এখন আর পরিচয় গোপন করার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করে থানায় জমা দিচ্ছি। তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভাড়াটিয়া ওঠানো হয়েছে। সেই দিনকে ঘিরে কিছু আতঙ্ক থাকলেও এখন বাড়িটিতে প্রাণ ফিরেছে। ’

কথাগুলো বললেন সাবরিনা শাহনাজ। তিনি ও তাঁর স্বামী মো. জুয়েল হাওলাদার বর্তমানে ‘তাজ মঞ্জিল’ (লোকে বলে জাহাজবাড়ি) নামের বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে আছেন। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হন। এর পর থেকে অনেকে বাড়িটিকে ‘জঙ্গিবাড়ি’ বলে থাকে।

গতকাল রবিবার দুপুরে তাজ মঞ্জিলে গিয়ে সাবরিনা শাহনাজ ও জুয়েল হাওলাদারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, ছয়তলা বাড়িটিতে বর্তমানে ২২টি পরিবার ভাড়া রয়েছে। ভাড়াটিয়ারা সবাই পেশাজীবী। সাবরিনা বলেন, “এলাকাবাসী এখনো বাড়িটিকে ‘জঙ্গিবাড়ি’ বলে থাকে। তবে বাড়িটি এখন আর জঙ্গিবাড়ি নয়। জঙ্গিবাদকে আমরা ঘৃণা করি। যারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে মানুষ ও দেশের ক্ষতি করছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই শান্তি। ”

জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘বাড়িটিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই ঘটনার পর থেকে বসবাস করছি। কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আমরা ভালো আছি। জঙ্গিরা একসময় এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠে আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। এখন আর সে সমস্যা নেই। এখন যাঁরা ভাড়াটিয়া হিসেবে আছেন, তাঁরা সবাই চাকরিজীবী। তাঁরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। ’ 

বাড়িটির কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাইরে থেকে বাড়িটি ঘিরে আতঙ্ক আছে। তবে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তাঁদের কখনো মনে হয় না তাঁরা ‘জঙ্গিবাড়িতে’ আছেন।

সাবরিনা শাহনাজ আরো বলেন, ‘বাড়িটির আসল নাম তাজ মঞ্জিল। তবে লোকে বলে জাহাজবাড়ি, জঙ্গিবাড়ি। আমি মনে করি, ছয় বছর আগে (২৫ জুলাই) যে ঘটনা ঘটেছিল, সেটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। বাড়িটির মূল মালিক আতাউর রহমান। তিনি চার বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে মো. জুয়েল বাড়িটির মালিক। তিনি আমেরিকায় থাকেন। আমাদের বাড়িটির দেখভাল করতে রেখেছেন। ’

তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস আগে ৮-১০ জন লোক পুলিশের পোশাক পরে এই বাড়িতে ঢুকেছিলেন। তাঁরা আমাকে না জানিয়ে নিচতলার গেট দিয়ে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে পাঁচতলায় চলে যান। তখন তাঁরা নিজেদের পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু এরপর তাঁরা বেশিক্ষণ দেরি না করে নিচে নেমে যান। বাড়ির গেটের অদূরে রাখা গাড়িতে করে দ্রুত চলে যান। গাড়িটির সামনে পুলিশ লেখা ছিল। ’

বিচার শুরু হয়নি ছয় বছরেও

মামলাটির বিচারকাজ গত ছয় বছরেও শুরু হয়নি। মামলা ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই আদালত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে মামলা বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য আছে।

অন্য আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২১), সালাহ্ উদ্দিন কামরান (৩০), আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ (২০), শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান (২৫), মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন (৩০), আবদুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুল ম্যান (৩৩) ও হাদিসুর রহমান সাগর (৪০)।



সাতদিনের সেরা