kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’

ছয় মাসে পানিতে ডুবে ৫৮২ মৃত্যু, ৯৯ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী

সজীব আহমেদ   

২৫ জুলাই, ২০২২ ০৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মাসে পানিতে ডুবে ৫৮২ মৃত্যু, ৯৯ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে পানিতে ডুবে ৫৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ৯৯ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী। গত বছরের একই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৭ জনের।

বিজ্ঞাপন

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম উন্নয়ন ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এই গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সমষ্টির তথ্য মতে, দেশে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত আড়াই বছরে মোট দুই হাজার ৮০৫ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিবছর পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, ‘অপঘাতজনিত কারণে আমাদের দেশে প্রতিবছর যে সংখ্যক শিশু মারা যায়, তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। ’

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর একটি বড় কারণ বলা হয় সরকারের তেমন উদ্যোগ না থাকা। তবে এ মৃত্যু রোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পও তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুর সুরক্ষা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৭১ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘ইনটেগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম- সেইফ ফেসিলিটিজ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারা দেশে ১৬টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় আট হাজার শিশু-যত্নকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। এসব যত্নকেন্দ্রে কাজ পাবে ১৬ হাজার গ্রামীণ নারী। প্রতিটি যত্নকেন্দ্রে ২৫ শিশুকে ভর্তি করা হবে। একই সঙ্গে ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানো হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সমাজভিত্তিক শিশু যত্নকেন্দ্র স্থাপন এবং শিশুদের সাঁতার শেখানোসহ অভিভাবকদের সচেতন করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে; যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান) মহিউদ্দীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে সম্প্রতি বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় আমরা ৪৫টি উপজেলায় আট হাজার শিশু-যত্নকেন্দ্র করব। সবার সহযোগিতায় শিশু একাডেমি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এটার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা যদি সফল হই, তাহলে সারা দেশেই এটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় শিশু একাডেমিতে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা