kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সংলাপে সিইসি

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসা গণতন্ত্রের অসুস্থতা

বিশেষ প্রতিনিধি    

২৫ জুলাই, ২০২২ ০৩:৩৭ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসা গণতন্ত্রের অসুস্থতা

কাজী হাবিবুল আউয়াল

‘নির্বাচনে ভোটাররা নিরুৎসাহ হয়ে পড়েছেন। গণতন্ত্রকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, গণতান্ত্রিক চেতনাকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, যাঁরা ভোটার তাঁদের ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। আর যদি উনারা ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তাহলে বোঝা যাবে গণতন্ত্রের অসুস্থতা রয়েছে। অবাধ, উৎসবমুখর নির্বাচনের চেষ্টা চালাব।

বিজ্ঞাপন

আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না। আইন ও বিধির আলোকেই ক্ষমতা প্রয়োগ করব। আমাদের ক্ষমতার কোনো ঘাটতি দেখছি না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর হতে পারে। তবে আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে, শুধু তার ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হতে পারে। সবাই বলছে নির্বাচনটা যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবারই প্রত্যাশা। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে ও অব্যাহত থাকবে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি, কাউকে নির্বাচনে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারব না। ওটা আমাদের দায়িত্বও নয়। আমাদের দায়িত্ব সবাইকে আহ্বান করা। ’

গতকাল রবিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে আয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ সময় নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘একটা খারাপ নির্বাচন করে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মোটেই ইচ্ছা নেই আমাদের। তবে সুন্দর নির্বাচন কেবল আমরা চাইলে হবে না, দলগুলোকেও একটু সংশোধনীর মধ্যে আসতে হবে। ’

গতকালের সংলাপে আমন্ত্রিত ছিল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। এর মধ্যে জেএসডি সংলাপে অংশ নেয়নি।

সংলাপে জাসদ বিদেশি কূটনীতিকদের অযাচিত নাক গলানোকে প্রশ্রয় না দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া দলটির পক্ষে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন কোনো সালিসি সংস্থা নয়। তাই কোনো বিতর্কে জড়ানো কমিশনের জন্য ঠিক হবে না। জাসদ নির্বাচনকালে জনপ্রশাসনের কাজে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে ব্যবহার, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা এবং নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিপক্ষে মত দেয়। এ ছাড়া নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে পুনরায় নির্বাচনের বিধান, ঋণখেলাপিদের মতো ইসলামবিদ্বেষী, ধর্মদ্রোহী নাস্তিক, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, খুনি, সন্ত্রাসী, কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ব্যবস্থা, রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতাসংক্রান্ত ধারাটি বাতিল এবং সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দেয় দলটি।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচন তিন দিনে করার প্রস্তাব রাখে। দলটির অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া।

সকালে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেন, ‘সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার অনুরোধ করে যাচ্ছি। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবারই প্রত্যাশা। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে ও থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আপনাদের সমর্থন ও সহায়তা আমাদের প্রয়োজন। ’

সিইসি আরো বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকাও হবে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বলছেন নির্বাচনকালীন সরকার, কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সেটি কিভাবে হবে তা অজানা। তবে সরকার থাকবে। নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে, সেই সরকার সহায়তা করবে। সেটি সরকারের সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব হবে। ’

দলটির নেতাদের সিইসি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরাও বলেছেন যে আল্লাহপাকের রহমত এবং দয়া যদি না থাকে, আমাদের জন্য বিষয়টি (নির্বাচন অনুষ্ঠান) কঠিন হবে। কাজেই আমাদের জন্য আপনারা অবশ্যই দোয়া করবেন যেন আমরা আমাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে পারি। ’

জাসদের সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেন, ‘আপনারা কূটনীতিকদের কথা বলেছেন। হ্যাঁ, কয়েক দিন আগে একটি গ্রুপ এসেছিল। তারা নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো পরামর্শ দেয়নি। বাইরে থেকে এমনটি মনে হতে পারে। তবে ওরা শুধু আমাদের নির্বাচন সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। এটা আগে থেকেই হয়ে আসছে। যখন কোনো নির্বাচন আসে, উনারা এসে সাক্ষাৎ করে যান। ’

সিইসি আরো বলেন, ‘আপনারা সালিসির কথা বলেছেন। সবাই বলছে নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি, কাউকে নির্বাচনে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারব না। ওটা আমাদের দায়িত্বও নয়। আমাদের দায়িত্ব সবাইকে আহ্বান করা। ’

এ সময় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয় নিয়েও কথা বলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রকৃত ব্যয়টা অনেক বেশি। বিধান অনুসারে অনেকে ১০, ২০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের প্রকৃত ব্যয় ১৫, ২০ কোটি টাকা। এখানে বাস্তবতার সঙ্গে সত্যের বিরাট একটা পার্থক্য আছে। অর্থশক্তি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রচার যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে ব্যয় কমে যায়। একই মঞ্চ থেকে যদি সব দলের প্রচার করা হয়, এটাকে প্রজেকশন মিটিং বলে, বিদেশেও হয়। ’

জাসদের সঙ্গে সংলাপের সময় নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা এখানে বসছি সাংবিধানিক পদ্ধতিতে একটা ভালো নির্বাচন করার জন্য। আমাদের কিন্তু মোটেও ইচ্ছা নেই খারাপ নির্বাচন করে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হই। এটা কিন্তু আমাদের মোটেই ইচ্ছা নেই। ভালো নির্বাচনই আমাদের চাওয়া। ’

ইনু যা বললেন

ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সালিসি সংস্থা নয়। কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হোক এটা আমরা চাই না। কূটনীতিকদের নিয়ে আমরা হতবাক হয়েছি। বাংলাদেশে কূটনীতিকরা এ রকম অযাচিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোরও ব্যর্থতা। রাজনৈতিক দলও এখানে দূতাবাসগুলোতে ধরনা দেয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের সালিসি ভূমিকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এটা ঠিক নয়। ’



সাতদিনের সেরা