kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

পর্যাপ্ত সার মজুদ, সংকট হবে না ডিসেম্বর পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০২২ ০৩:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পর্যাপ্ত সার মজুদ, সংকট হবে না ডিসেম্বর পর্যন্ত

গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) মজুদ সার দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে সিইউএফএল থেকে সার পেতে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এদিকে চুয়াডাঙ্গায় বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের।

চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দাম চাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে দণ্ড দিচ্ছেন। তাতেও সারের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরীফ উদ্দীন জানান, প্রতিবছর অন্তত ৩০ বিঘা জমিতে আলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধনেপাতা প্রভৃতি চাষ করেন। তিনি বলেন, ইউরিয়া সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ কেজির বস্তা ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে ১০০০ টাকা দিয়ে। এ ছাড়া এমওপি, টিএসপি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সারের সংকট নেই। তবে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।

হানুরবাড়াদি গ্রামের এক কৃষক অভিযোগ করেন, এমওপি সারের সংকট আছে। এমওপি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বলেন, ইউরিয়া ও টিএসপির সংকট নেই। তবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশি দামে কিনলে যত খুশি কেনা যায়।

চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের দোকানগুলোতে সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। ডিলাররাও বেশি নিচ্ছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো পক্ষই স্বীকার করতে চায় না। তার পরও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। বেশ কয়েকজন সার ডিলার ও বিক্রেতারকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘সারের সংকট নেই। আমরা মনিটরিং করছি, যাতে কেউ বেশি দাম নিতে না পারে। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগও আসেনি। ’

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি উদ্যোগের আওতায় গ্যাস রেশনিংয়ের কারণে ১৯ জুলাই সিইউএফএলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিইউএফএফ সূত্র জানায়, বন্ধ হওয়ার আগেও দৈনিক ১৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতার কারখানাটিতে প্রায় সমপরিমাণ সার উৎপাদন হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে তা এক লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে সিইউএফএলের উৎপাদন বেড়ে দুই লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন হয়।

সিইউএফএলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটিতে এই মুহূর্তে এক লাখ দুই হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ আছে। এর মধ্যে বাল্ক হিসেবে ৭৮ হাজার মেট্রিক টন এবং বস্তাবন্দি অবস্থায় আছে আরো ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার। এই মজুদ দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। তবে এই সার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। তারাই ঠিক করে দেয় দেশের কোন অঞ্চলে কবে কতটুকু সার সরবরাহ করতে হবে।

বন্ধ সিইউএফএল চালুর ব্যাপারে জানতে চাইলে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মঈনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশা করছি দ্রুত চালু হবে সিইউএফএল। তবে সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় কবে নাগাদ আবার গ্যাস সরবরাহ পাব। ’

সিইউএফএল সূত্র জানায়, কারখানাটির প্রতি কেজি ইউরিয়া সার উৎপাদন খরচ ১৯ টাকা। তবে সরকার ভর্তুকি মূল্যে ১৪ টাকা করে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। সিইউএফএল সরকারের সার নিরাপত্তা মজুদে বড় ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বাফা), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ খান মাহবুব বলেন, ‘এই মুহূর্তে সিইউএফএলে গুদামভর্তি সার মজুদ আছে। এই মজুদ দিয়ে আগামী কয়েক মাস চাহিদা মেটানো যাবে। ’

পেট্রোবাংলা এবং বিসিআইসির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পেট্রোবাংলা সারা দেশের গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলোকে রেশনিং করে পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সার কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দকৃত গ্যাসের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সার কারখানার জন্য সরকার ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ করে দিয়েছে। বরাদ্দ গ্যাস দিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো হবে। এর মধ্যে কাফকো এবং শাহজালাল সার কারখানা উৎপাদন অব্যাহত রাখবে।



সাতদিনের সেরা