kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাজধানীতে দেবরের হামলায় আহত ভাবির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২২ ২৩:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীতে দেবরের হামলায় আহত ভাবির মৃত্যু

রাজধানীতে দেবর কামাল হোসেন ও আলতাফ হোসেনসহ কয়েকজনের হামলায় আহত ভাবি পাখি আকতার আঁখি (৩৫) মারা গেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে গত ১২ জুলাই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তাকে লোহার রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে আহত করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জুরাইন মেডিকেল রোড এলাকার বাসিন্দা হাজী মো. সাহাজান মিয়ার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া লেইজার্ড কয়েল ফ্যাক্টরি ও এর আয়ের টাকা যথেচ্ছভাবে খরচ এবং কারখানা দখলের অপচেষ্টা করে সাহাজান মিয়ার দুই ছেলে কামাল ও আলতাফ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে তাদের বড় ভাই মনির হোসেন কারখানার হিসাব চাইলে ও যথেচ্ছ খরচে বাধা দিলে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করে এবং তার দুই ছেলে সাজ্জাদ ও সাব্বিরকে মারধর করেন, হত্যার ভয় দেখায়।

গত ১২ জুলাই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সাজ্জাদ ও সাব্বির লেইজার্ড কয়েল ফ্যাক্টরির অফিসে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কামাল হোসেন, আলতাফ হোসেন, স্বপন, ভুলু, রিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেদম মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। এসময় সাজ্জাদের মা পাখি আক্তার আঁখি এগিয়ে গেলে তাকেও লোহার রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। পরে আঁখি, সাজ্জাদ ও সাব্বিরকে ওইদিন রাতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পাখিকে শ্যামলী হেলথ কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসার পর শনিবার রাতে পাখি আক্তার মারা যান।

এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মনির হোসেন বাদী হয়ে কামাল হোসেন ও আলতাফ হোসেন এবং স্বপন, ভুলু, রিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে ১৩ জুলাই কদমতলী থানায় মামলা করেন। মামলার ৪ দিন পর শনিবার ২ নম্বর আসামি আলতাফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, কামাল হোসেন শ্যামপুরে কবির হোসেন নামের এক স্থানীয় সন্ত্রাসী হত্যা মামলার এবং অস্ত্র মামলার ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত প্রধান আসামি। পাখি হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামালসহ অন্যান্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার বাদী মনির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের অভিযোগ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি গ্রেপ্তারে উদাসীন।

কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রলয় কুমার জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা