kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

৯০% চামড়া বিক্রি শেষ পোস্তায়, ব্যবসায়ীদের সন্তোষ

♦ রাজধানীর বাইরে বেচাকেনা শুরু ♦ দু-এক দিনের মধ্যে রাজধানীতে আসবে বাইরের চামড়া ♦ ছয় দিনে ট্যানারিতে প্রবেশ করেছে সাড়ে ৯ লাখ পিস চামড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২২ ১০:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯০% চামড়া বিক্রি শেষ পোস্তায়, ব্যবসায়ীদের সন্তোষ

কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াকরণের প্রথম পর্ব শেষ। রাজধানীর পোস্তা থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে পাঠানোর জন্য শ্রমিকরা ট্রাকে ওঠাচ্ছেন লবণ দিয়ে রাখা চামড়া। গতকাল তোলা। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

রাজধানীর কাঁচা চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার পোস্তায়। সেখানকার আড়তদারদের সংগ্রহ করা লবণযুক্ত চামড়ার ৯০ শতাংশ এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে। তথ্যটি জানায় আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএসএমএ)। এ বছর কোরবানির ঈদে তারা এক লাখ তিন হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সংগ্রহ করা এসব চামড়ার ৫০ শতাংশের বেশি এরই মধ্যে ট্যানারি মালিকদের সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে অবশিষ্ট চামড়া ট্যানারিতে চলে যাবে। এ ছাড়া সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে কিছুটা কম-বেশি হলেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বাইরের চামড়া প্রবেশ করতে শুরু করবে রাজধানীতে। এর বাইরে রাজধানীর হাজারীবাগ, সোনারগাঁ, সাভারের হেমায়েতপুরেও বর্তমানে প্রচুর চামড়া লবণজাত করে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি আফতাব খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের পর এই কয়েক দিনে এবার পোস্তায় প্রায় এক লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ চামড়া বিক্রি হয়েছে। বিক্রি করা চামড়ার ৫০ শতাংশ ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, সাড়ে ৯ লাখ পিস চামড়া এরই মধ্যে ট্যানারিতে প্রবেশ করেছে। ’ 

চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এবার কোরবানির পশুর প্রায় এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তাঁরা। এবার স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ করার ফলে গরু বা মহিষের চামড়া নষ্ট হয়নি। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও খাসির চামড়া নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কম থাকায় এই চামড়া নষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সরাসরি তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ফলে এবার চামড়া সংরক্ষণে সংকট হয়নি বলে জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ট্যানারি মালিকরা সাড়ে ৯ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। ঢাকার বাইরের লবণযুক্ত চামড়াও আসতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনাও ভালো। ’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্য সংস্থাগুলোর তদারকির ফলে চামড়া তেমন নষ্ট  হয়নি। তবে এক দিনে এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বর্তমান ব্যবস্থাপনায় কঠিন। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা