kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

ট্যানারি

লক্ষ্য ৯৫ লাখ, তিন দিনে সংগ্রহ সাড়ে ৫ লাখ চামড়া

আজ শুরু ‘লবণযুক্ত চামড়া’ কেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২২ ০৩:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্য ৯৫ লাখ, তিন দিনে সংগ্রহ সাড়ে ৫ লাখ চামড়া

এ বছর ট্যানারি মালিকরা ৯৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করবেন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে লবণযুক্ত চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তাঁরা বলছেন, রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যে লবণযুক্ত চামড়া কেনা হবে। কোরবানির ঈদের তিন দিনে ট্যানারি মালিকরা সরাসরি সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডি ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। এ সময় ট্যানারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আহমেদ জানান, এরই মধ্যে কোরবানির তিন দিনে ট্যানারি মালিকরা সরাসরি সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। আজ থেকে ট্যানারিগুলো সারা দেশের চামড়ার আড়ত ও হাট থেকে ‘লবণযুক্ত চামড়া’ কেনার কাজ শুরু করবে।

তিনি বলেন, লবণযুক্ত চামড়া কেনার মধ্য দিয়ে এ বছর ট্যানারি মালিকরা ৯০ থেকে ৯৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, খাসি ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ করবেন। গত বছর কোরবানির ঈদে ট্যানারি মালিকরা  তিন লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন।

সাধারণত কোরবানির চামড়ার বড় অংশ লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। পাশাপাশি ট্যানারি মালিকরাও সরাসরি কিছু কাঁচা চামড়া কেনেন।

সরকারের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এবার ঈদুল আজহার দিন সারা দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু, যা গতবারের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।

সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী ট্যানারিগুলো এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনছে ৪৭ থেকে ৫২ টাকায়। আর ঢাকার বাইরে এই দাম ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। লবণযুক্ত খাসির চামড়া সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকায় কিনেছে ট্যানারি। আর ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ঈদের পর থেকে চামড়া বিক্রি করে লোকসানের কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার মৌসুমি বিক্রেতারা, যাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে পাইকার বা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন। দাম না পাওয়ায় ছাগলের চামড়া ভাগাড়ে ফেলার খবরও এসেছে।

চামড়াসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তগুলোকে যুগোপযোগী উল্লেখ করে শাহিন আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করায় সঠিকভাবে চামড়া সংগ্রহের কাজ চলছে। ঈদের পর সাত দিন রাজধানীতে চামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানান তিনি। ট্যানারি মালিকদের সে রকম সক্ষমতা নেই যে দু-এক দিনের মধ্যে লাখ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। সে কারণে বিভিন্ন জেলায় চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

চামড়াজাত পণ্য বা চামড়ার দর বিশ্বের অন্যান্য দেশে কমেনি উল্লেখ করে শাহিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যে চামড়া উৎপাদন করছি, সেই চামড়া ব্র্যান্ড বায়ারদের কাছে সেল করতে পারছি না। আমরা নন-কমপ্লায়েন্ট বায়ার অর্থাৎ চীনা বায়ারের কাছে যে পণ্যের দাম দুই ডলার, সেটা আমরা এক ডলারে বিক্রি করছি। বেশির ভাগ ট্যানারি মালিক ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে লসে চামড়াগুলো সেল করছেন।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, ২০১৬ সালের আগে ঢাকায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দরেও বড় আকারের একটি গরুর চামড়া বিক্রি হতো। পরের বছর ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

খাসি বা ছাগলের চামড়ার দাম না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে শাহিন বলেন, ‘ছাগলের চামড়ার ডিমান্ড বিশ্বব্যাপী কমেছে। আমরা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিফট করেছি ২০১৭ সালে। সেখানে মূলত খাসি ও ছাগলের চামড়ার ইউনিট ছিল। সেই ইউনিটগুলোকে আমরা নিতে পারিনি। ’

সংবাদ সম্মেলনে চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণ, চামড়া খাতে ঋণের তিন বছরের সুদ মওকুফ, জরুরি ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন, এলডাব্লিউজি সনদ পাওয়ার পদক্ষেপসহ চামড়াশিল্প নগরীর ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা হালনাগাদ করার দাবি জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা