kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

ঢাকা থেকে ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত বাস

সজিব ঘোষ   

৫ জুলাই, ২০২২ ০৩:৪৪ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ঢাকা থেকে ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত বাস

ঈদ যাত্রার জন্য ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে বাস। গতকাল রাজধানীর মিরপুরের গাবতলীর কোটবাড়ী এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাস ব্যবসায়ীরা। আগামী রবিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বাসে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাস মালিকরা বলছেন, আজ মঙ্গলবার থেকেই বাসে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

এবার ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আট লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে।

ঈদ ঘিরে বাসের অগ্রিম টিকিট এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বেশি ভাড়া নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে নামতে পারে। এসব বাসের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা ৫০ হাজার ৬৮৮। এর মধ্যে আন্ত জেলায় ২১ হাজার ৮০৫টি বাস চলাচল করে। আর প্রায় ১০ হাজার বাস রাজধানী থেকেই বিভিন্ন জেলায় যায়।   

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মোহাম্মদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার বাস বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এসব বাস দিনে গড়ে যদি দুটি করেও ট্রিপ দেয় তাতে প্রতি বাসে ৪০ জন যাত্রী হিসাব করে আট লাখ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।

বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না

গত ২৪ জুন বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর ঘোষণা দেন বাস মালিকরা। কিন্তু দু-তিন দিন ধরেই বেশির ভাগ বাসের কোনো অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অগ্রিম টিকিট শুধু গাবতলী থেকে বিক্রি করা হয়। আর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালীর মতো বড় বাস টার্মিনালগুলোতে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রিই করা হয় না। আবার বাসগুলো মালিকদের দুটি সংগঠনে বিভক্ত। যেসব বাস মালিক বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, তাঁরা অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেন। আর যাঁরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য, তাঁরা ঈদকেন্দ্রিক অগ্রিম টিকিট বেশি দিন আগে বিক্রি করেন না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, দুটি সংগঠন দুইভাবে চলে। গাবতলীর বাসগুলো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে, অন্যরা করে না।

এবার ফেরিঘাটের দিকে বাসের চাপ কম থাকবে। দক্ষিণের বাসের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে পদ্মা সেতু পথে। এরই মধ্যে ওই রুটে চলা সব বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বিআরটিএ। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

জানতে চাইলে সামদানী খন্দকার বলেন, ‘ছোট ছোট রুটের পরিবহন শ্রমিকরা এ ধরনের কাজ করে থাকেন। তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিলেও সেই টাকা বাস মালিকদের কাছে এসে পৌঁছায় না। মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিতেও বলেন না। তবে যেসব বাসের টিকিট কাউন্টার থেকে নিতে হয়, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। ’

সড়কে নামতে পারে ফিটনেসবিহীন বাস

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ যাত্রায় সড়কে পুরনো বাস জোড়াতালি দিয়ে ঘষেমেজে রং করে সড়কে নামানো হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এটা হলে সড়কে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এরই মধ্যে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস না চালাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।   

গতকাল সোমবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাস মেরামতসহ নানা কাজ করা হচ্ছে। কিছু বাসে ধোয়ামোছা চলছে, কিছু বাসের গায়ে লাগছে রং। আবার কিছু বাসের আসনের কাপড় বদলানো হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় চাহিদার তুলনায় বাসের জোগান কম থাকে। এই সুযোগে ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে নামানো হয়। আনফিট বাসের সঙ্গে অদক্ষ চালকও থাকে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ’

প্রতিবছর ঈদের সময় গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নিজেরা ছোট ছোট বাস ভাড়া করে গ্রামের পথে রওনা দেন। সাধারণত এসব বাস আন্ত জেলায় চলাচল করে না।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব ছোট বাসের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। চলাচলের অনুমতি না থাকলেও ঈদের সময় এসব বাস আটকানো হয় না। আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, শ্রমিকরা নিজেরাই প্রায় আড়াই হাজার বাস ভাড়া করে গন্তব্যে যাবেন।

গতকাল বিআরটিএর সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজীপুরে অন্তত ১৫ লাখ শ্রমিক ঈদের সময় রাস্তায় নামেন। সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি হাজি আবুল কালাম বলেন, গাজীপুরে কয়েক লাখ শ্রমিক ফিটনেসবিহীন সিটি সার্ভিসের বাস নিয়ে গ্রামে যান। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। এটা বন্ধ করতে হবে।

এর বিপরীতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সভায় বলেন, গাজীপুরের শ্রমিকরা নিজ দায়িত্বে যাওয়ায় গত ঈদে ভোগান্তি কম হয়েছে। তাই এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। ফিটনেসবিহীন বাসের জন্য মালিকদের চিন্তা হলে তাঁরা সেখানে ২০০ নতুন বাস দিতে পারেন।

ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ বাস সড়কে চলাচল প্রসঙ্গে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ‘বিআরটিএর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হুংকার দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, এবারও নির্দ্বিধায় ফিটনেসবিহীন বাস মহাসড়কে চলবে। কারণ এই চাপের সময় কোনটা বৈধ বাস, কার রুট পারমিট আছে কার লাইসেন্স নেই; এগুলো তখন আর কেউ দেখতে চায় না। ’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মোহাম্মদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, এবার ঈদে ৪০ লাখ মানুষ বাসে ঢাকা ছাড়বে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এবার দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চে চাপ কমবে। লঞ্চের যাত্রীও বাসে পাওয়া যাবে। বাসে যাত্রীরা স্বচ্ছন্দে বাড়ি যেতে পারবে। পথেও তেমন ভোগান্তির আশঙ্কা দেখছি না। ’



সাতদিনের সেরা