kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী-এমপি ও বিশেষজ্ঞরা

জলাশয়ের পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারলে বন্যার তীব্রতা কমানো সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২২ ২১:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলাশয়ের পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারলে বন্যার তীব্রতা কমানো সম্ভব

জলাশয়সমূহের পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারলে বন্যার তীব্রতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী-এমপি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বন্যা প্রতিরোধে দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়সহ অন্যান্য জলাশয় খননে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা আয়োজিত ‘সিলেট অঞ্চলে ঘন ঘন বন্যা : কারণ, পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই আহ্বান জানান।  

সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সভাপতি আজিজুল পারভেজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতীন উদ্দীন আহমেদ, রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'গত ৩০-৩৫ বছরে হাওরে যে উন্নয়ন হয়েছে তার অনেক ক্ষতি করেছে বন্যা। বন্যায় ক্ষতি হয় বলে হাওরের উন্নয়ন বন্ধ করে দেব, এটা হতে পারে না। হাওরের মানুষও উন্নত জীবনযাপনের অধিকারী ও অংশীদার। শিগগিরই সিলেট-সুনামগঞ্জে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ' তিনি বলেন, বিনা মূল্যে বীজ ও সার ক্ষুদ্র চাষিদের মাঝে প্যাকেট করে বিতরণ করা হবে। হাওরের বাসিন্দাদের যাদের কাঁচা ঘর তাদের সিমেন্টের খুঁটি ও মেঝে পাকা করে দিতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে।

সভায় পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কমাতে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। অবাধে বৃক্ষ নিধন, পাহাড়, টিলা কর্তন বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সুরমা ও কুশিয়ারার নদীপথ পুনরায় চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যা ভূপৃষ্ঠে পানি ধারণক্ষমতাও বাড়াবে। যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় সমাজের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।  

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, 'কেউই কল্পনা করেনি এত বড় বন্যা হবে, তাই সরকারকে এককভাবে দোষ দেওয়া যায় না। অসংখ্য সমাজসেবী ও মানবসেবী মানুষ বন্যার্তদের সহায়তা করেছে। আমি মনে করি, এরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার মানুষ। বন্যা আগামী বছর আবারও আসতে পারে, তাই বন্যা মোকাবেলায় এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। '

উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, 'আপাতত বন্যার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, যদি হঠাৎ করে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে। জলাভূমি কমেছে, সংরক্ষিত এলাকাতেও মানুষের থাবা পড়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বসে নেই, তাই জলাভূমি কমা রোধে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ' তিনি আরো বলেন, 'দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও দল সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। হাওর অঞ্চলসহ সারা দেশে কিভাবে বন্যা, নদীভাঙন স্থায়ীভাবে মোকাবেলা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। '



সাতদিনের সেরা