kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

গ্রেপ্তার আশিকের বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ১০ অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি   

৩০ জুন, ২০২২ ২৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রেপ্তার আশিকের বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ১০ অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষিকাকে হেনস্তা করা এক‌ই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহর নামে শিক্ষার্থীদেরকে মারধর, উত্যক্তকরণসহ একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও শিক্ষকদের হেনস্থা করাও তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার নামে বিভাগের শিক্ষার্থীরা থানার ৮ টি ডায়েরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ১০টি অভিযোগ দিয়েছেন। আশিক উল্লাহর বিরুদ্ধে আইনবিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা, উত্যক্তকরণসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল ১০টি অভিযোগ নিয়ে আইনবিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ বিভাগের সভাপতি ও আইন অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন‌। প্রত্যেকটি অভিযোগে তারা ঘটনার দিন-তারিখ‌-সময় এবং প্রমাণাদি জমা দেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে,  গত ১২ এপ্রিল সোয়া ১২টায় কতিপয় নারী সহপাঠীকে ক্লাসে প্রকাশ্যে ইভটিজিং এবং অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেন আশিক উল্লাহ। এক‌ইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সহপাঠী সোমাইয়া খন্দকার মুমুকে ফোনকলের মাধ্যমে উত্যক্তকরণ, ব্যক্তিগত আক্রমন, ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।  

পরে রাত আড়াইটায় বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের নামে অশালীন মন্তব্য লেখা, গ্রুপের নিয়ম ও শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা এবং তাকে থামতে বললে প্রতিবাদকারীদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আর‌ও অনেক অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী  মো. আক্তার হোসাইন জানান, ‘অভিযোগের পরের দিন আমরা ডিপার্টমেন্টে এবং ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই। ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের সামনে তাকে ফোন দেন এবং তার কার্যক্রম থামাতে বলেন। এরপর তিনি ক্ষেপে গিয়ে উপাচার্যের বাসায় যান কিন্তু উপাচার্য না থাকায় দেখা করতে পারেন না। এরপর ছাত্র উপদেষ্টার বাসায় প্রবেশ করে চিল্লা-পাল্লা করেন। সেখান থেকে বের হয়ে ভিসি স্যারের বাড়ির সামনে অনশনে বসেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে বুঝিয়ে সেখান থেকে প্রশাসন ভবনে নিয়ে যান। পরেরদিন মুচলেকা নিয়ে তাকে তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ’

পরবর্তীতে গত ১ জুন রাবির আইন বিভাগের এক‌ই বর্ষের ৮ জন শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহর বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি করা শিক্ষার্থীরা হলেন- রাবির আইন বিভাগের সাদিয়া ইসলাম, সুমাইয়া বিনতে হাই, মোসা. জান্নাতুন নাঈম মিতু, মো. মেহেদি হাসান, মো. ইমরান হোসেন, মো. আক্তার হোসাইন, মো. আব্দুল আলিম, আবু ইউসুফ।  

ডায়েরির ব্যাপারে  মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ‘আমরা তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছি। আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদালত থেকে অনুমতি পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। ’

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন বিভাগের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত বছরের মার্চে আশিক উল্লাহর সাথে এক ব্যাচমেটের কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে সে। তখন ডিপার্টমেন্টের স্যারদের হস্তক্ষেপে বিষয়টা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। আশিকের আব্বা-আম্মা এসে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিলে বিষয়টা শেষ হয়ে যায়। তারপর থেকে আমরা ওকে ভয় পেয়ে চলি। ওর বাবা পুলিশ। কেউ ওর কিছু করতে পারে না। ’

ভুক্তভোগী তুষারের মতিহার থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত বছরের মার্চে বিভাগীয় কোর্স জমা নিয়ে আশিক উল্লাহ বিভাগের শিক্ষকদেরকে নিয়ে একটা সমালোচনামূলক পোস্ট দেয়। সেই পোস্টের সমালোচনা করে কমেন্ট করে তুষার। এর জেরে আশিক তুষারকে হুমকি দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর বাজারে আসতে বলে। পরবর্তীতে আশিক সেখানে বিভাগের শিক্ষক শিবলী ইসলামের গাড়ি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় দু'জন ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে তুষারকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে।  

গাড়িতে তুলে তুষারকে রাজশাহী কাটাখালী বাজারের আশপাশের এক গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশিকুল্লাহ তুষারকে জড়িয়ে ধরে এবং ওই দু'জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দুটি ফেনসিডিল তার পকেটে জোরপূর্বক রাখে। পরে মাদক মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।  

একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রেখে যায় আশিক ও তার দুই-সহযোগী। পরবর্তীতে বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি জানালে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। ‘আমি মতিহার থানায় অভিযোগ করার দুইদিন পর তারা তদন্ত শুরু করে’ বলে জানান তুষার।  

গোপন সূত্রে জানা গেছে, তুষারের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আশিক উল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এছাড়াও আইন বিভাগ থেকে কোনো শাস্তিমুলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বরং এ বিষয়ে সমাধানের জন্য বিভাগীয় প্রধান আশিককে সভাকক্ষে ডাকেন। সেখানে ভুক্তভোগী তুষারের কাছে আশিক এবং তার পিতা বিল্লাল হোসেন ক্ষমা চান।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. হাসিবুল আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।



সাতদিনের সেরা