kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

শিক্ষাঙ্গন যখন সাম্প্রদায়িকতার টার্গেট

মো. জাকির হোসেন   

৩০ জুন, ২০২২ ০৪:২৮ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



শিক্ষাঙ্গন যখন সাম্প্রদায়িকতার টার্গেট

তাত্ত্বিকভাবে, কলামে, টক শোতে যা-ই বলা হোক, সাম্প্রদায়িকতা এখন উদ্বেগের বিষয়। পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক নীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে যুক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ইশতেহার মানুষ গ্রহণ করেছিল। এর ভিত্তিতেই আমরা স্বাধীনতা লাভ করি।

বিজ্ঞাপন

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন : ‘বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর এই রাষ্ট্রের ভিত্তি ধর্মভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ’ বাংলাদেশের সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক ধারায় ফিরিয়ে নেন সামরিক শাসকরা এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ফলে মুক্তিযুদ্ধের নীতিকে বিসর্জন দেওয়া হয়। সংবিধান থেকে অসাম্প্রদায়িকতার নীতি বাদ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন ও উৎসাহিত করা হয়।

এভাবে সাম্প্রদায়িকতার শিকড় রাষ্ট্র ও সমাজের অতি গভীরে প্রোথিত করে দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচনের প্রতিশোধ নিতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের হত্যা, অপহরণ, হিন্দু নারীদের দল বেঁধে ধর্ষণ করার মতো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আমরা অবলোকন করেছি। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের ঘরে আটকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার কর্তৃক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি’ গ্রহণ করার পরও সাম্প্রদায়িকতা নানারূপে বারবার ফিরে আসছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করা হয়, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আক্রমণ পরিচালিত হয়, হুজুরের সম্মান রক্ষার নামে নিরপরাধ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মানহানি করা হয়, সম্পদ লুটতরাজ, বাড়িঘর, উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়, আক্রমণের অজুহাত তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে দেওয়া হয়। গত দুর্গাপূজার সময় যেভাবে ব্যাপক মাত্রায় হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এমনটা সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। চার দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর লাগাতার হামলা হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, এটা সংগঠিত বড় শক্তির কাজ। দীর্ঘ পরিকল্পনা, দেশব্যাপী লোকবল ও অর্থবল ছাড়া এমন ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায় প্রতীয়মান হয়, সাম্প্রদায়িকতার নতুন টার্গেট এখন শিক্ষাঙ্গন। ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পুলিশের সামনে নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনা এর আগে কখনো এই বাংলায় ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ফেসবুকে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে ওই কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। একই ধর্মের হওয়ায় ওই ছাত্রকে সাপোর্ট দিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজছাত্রের সঙ্গে অধ্যক্ষকেও আটক করা হয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ওই দিনই থানা হাজত থেকে অধ্যক্ষকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ইসলাম ধর্ম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও বাংলাদেশের সংবিধানে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মানব মর্যাদার জন্য অবমাননাকর শাস্তি নিষিদ্ধ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না। ’ কী অভিযোগে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে জুতার মালা পরানোর মতো চরম লাঞ্ছনাকর আচরণ করা হলো? অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস তো কোনো অপরাধ করেননি। ফেসবুক পোস্টটি দেখার পর স্বপন কুমার বিশ্বাস কলেজের শিক্ষক, ওই শিক্ষার্থীর বাবা ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হবে। যদি ধরেই নিই উন্মত্ত জনতার হাত থেকে একজন বিপন্ন শিক্ষার্থীকে আগলে রেখে একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন। জোহা স্যার বলেছিলেন, ‘ছাত্রদের গায়ে গুলি লাগার আগে সেই গুলি আমার বুকে লাগবে। ’ ছাত্রদের রক্ষায় নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। মাসখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালডে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ইভা মিরেলেস ও তাঁর সহশিক্ষক ইরমা গার্সিয়াও ছিলেন। এই দুই মহান শিক্ষক নিজেদের জীবন বাজি রেখে শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। গুলি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে মৃত্যুর আগে শিশুদের বুকে জড়িয়ে রাখেন এই দুই শিক্ষক। শিশুদের বুকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসও এমন মহান দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। তাঁর শাস্তি কি জুতার মালা? অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজ কিংবা রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না কি? বাংলাদেশের আইন এবং ইসলাম ধর্মের বিধান কি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয়?

মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদের সন্তানদের দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দুর্বহ মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। আর সেই মানুষটিকে আমরা নিজ হাতে চরম অপমান করলাম? শিক্ষক জ্ঞানের আলো দ্বারা যুগের সব অন্ধকার দূর করে মানুষের জন্য সভ্য পৃথিবী সৃজন করেন। সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষক মানুষের ভেতর সত্যিকারের মানুষ সৃজন করেন। তাই শিক্ষককে বলা হয় সন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা। জ্ঞান বা বিদ্যার্জনের জন্য শিক্ষকের ভূমিকাকে দ্বিতীয় জন্মদাতার সঙ্গে তুলনা করে শাহ মুহম্মদ সগীর কবিতার ছন্দে লিখেছেন—‘ওস্তাদে প্রণাম করো পিতা হন্তে বাড়,/দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আহ্মার। ’

অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের সম্মানের যে অবমাননা হয়েছে পৃথিবীর কোনো কিছুর বিনিময়ে কি আর সেই সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া যাবে? স্ত্রী, সন্তান, স্বজনের সামনে স্বপন স্যার যখন দাঁড়াবেন জুতার মালা গলায় পরার দৃশ্যটি যখন তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠবে তাঁর কি অনুভূতি হবে তা চিন্তা করে দেখেছেন কখনো? অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের প্রতি যে চরম অবিচার হয়েছে, তা একই ধর্মাবলম্বীকে বাঁচানোর চেষ্টা করার শাস্তি নয়, বরং এটি সংখ্যাগরিষ্ঠের সংখ্যায় কমসংখ্যকদের অস্তিত্বহীন করার পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ।

অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের চরম লাঞ্ছনার ঘটনার রেশ না কাটতেই ঢাকার আশুলিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় উৎপল কুমার নামের এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন জিতু নামের এক বখাটে শিক্ষার্থী। সাম্প্রদায়িকতার ছোবল যে বাংলাদেশের সমাজকে ক্রমেই অসহিষ্ণু করে তুলছে এটি তারই সাক্ষ্য বহন করে। কয়েক মাস আগে ধর্ম ও বিজ্ঞানকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার ভিডিও ধারণ করে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে ফাঁদে ফেলল তাঁরই ছাত্ররা। শিক্ষার্থীরা নিজের শিক্ষাগুরুর নামে স্লোগান দিল—‘হৃদয় মণ্ডলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে। ’ আমার প্রজন্মের যাঁরা তাঁরা নিশ্চয়ই একমত হবেন যে আমরা যখন স্কুলে পড়েছি শিক্ষকদের কী সম্মান, শ্রদ্ধা আর সমীহের চোখে দেখতাম। এমন একটি স্লোগান দেওয়ার কথা আমাদের প্রজন্ম কি কল্পনাও করতে পারত? সাম্প্রতিক সময়ে হিজাব বিতর্কের আরেক ঘটনায়ও জানা গেল, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক আরেক শিক্ষককে শায়েস্তা করতে ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। স্কুলের ইউনিফর্ম না পরার শাস্তিদানকে হিজাব পরার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে ওই শিক্ষকের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন। এটি এখন সুস্পষ্ট যে সারা দেশে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। তাদের টার্গেট এখন শিক্ষাঙ্গন। দেশের নানা জায়গায় সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে শিক্ষকদের হত্যা, অপদস্থ ও হয়রানি করা হচ্ছে।

সময়ের পরিক্রমায় বাংলার অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আজ ভয়ানক হুমকির মুখে। অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ বুকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে সাম্প্রদায়িকতা নতুন রূপে ও নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার রিং মাস্টাররা বারবার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস করতে সফল হচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুরা, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে এমন বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার শিকড় উপড়ে ফেলা যাবে না। সাম্প্রদায়িকতার শিকড় গভীরে প্রোথিত। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ওই গোষ্ঠীকে পরাজিত করতে না পারলে বাংলাদেশের মূল চেতনাই পরাজিত হবে। সাম্প্রদায়িকতা শান্তি, সম্প্রীতি, প্রগতি ও উন্নয়নের শত্রু। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হবে। মনের অন্ধকার ও সংকীর্ণতা দূর করাটাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। ধর্মের সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার করে রায় কার্যকর করতে হবে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির আলোকে শিক্ষা, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সব কার্যসাধনে প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজাতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]



সাতদিনের সেরা