kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

'অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তার চলছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুন, ২০২২ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তার চলছে'

নারী ও সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সহিংসতা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত আলোচনাসভায় তারা বলেছেন, অপপ্রচারের মাধ্যমে পরিকল্পিত নাশকতা চালানো হচ্ছে। ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তার চলছে। এটা বন্ধে এসংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার বিএনপিএসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্র, ইহজাগতিকতা ও নারী এবং সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর অধিকার’ শীর্ষক ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর।

বিএনপিএসের উপপরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তৃতা করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সিনিয়র স্পেশালিস্ট সৈয়দ মাহফুজ আলী, প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খন্দকার, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব চঞ্চনা চাকমা, আদিবাসী যুব ফোরামের নেত্রী মুনিরা ত্রিপুরা, পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহম্মেদ, কৃষক সমিতি নেতা মানবেন্দ্র দেব, আইইডির সমন্বয়কারী তারিক হোসেন, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়কারী চন্দন লাহেড়ী, নারী নেত্রী মাসুদা রওশন ও ফ্রিল্যান্স কনসাল্টট্যান্ট মাহফুজা মালা প্রমুখ।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, 'নির্বাচন সামনে এলেই রাজনৈতিক দলগুলোকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলতে শুনি। নারী, সংখ্যাল্প ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায়? জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশ নারী। অথচ তাদের বিরুদ্ধে ও অপরাপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, তাদের প্রতি বৈষম্য টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানে বলা আছে, এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। আমরা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমনাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানাই। '

এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ সৈয়দ মাহফুজ আলী বলেন, গণতন্ত্রমনা, মানবিক, জেন্ডার ও সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর প্রতি সংবেদনশীল মানস গঠনে পাঠ্যপুস্তকের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাকরণ পড়াই, বিজ্ঞান পড়াই, গণিত পড়াই, কিন্তু তারা এগুলো কেন পড়ছে, তা তারা জানে না। তাই শিক্ষার দর্শন ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট করা জরুরি। এর মাধ্যমেই সমাজের চিন্তাভাবনার বদল ঘটানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, 'আমরা নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ করছি। এতে জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও সকল নাগরিকের অধিকারের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। '

শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বেশি হলেও কর্মস্থলে নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতা রয়েছে। এই অসমতা দূর করতে রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ জোট থাকা জরুরি। এ জন্য শক্তিশালী নারী অধিকার বিষয়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

নারী অধিকার কর্মী মাহফুজা মালা বলেন, বর্তমানে দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে গুজব রটিয়ে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যার ফলে সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর প্রার্থনাস্থল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসস্থান এবং সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। তাই ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনায় নারী ও  সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠী বিদ্বেষী প্রচার-প্রচারণা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।



সাতদিনের সেরা