kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুন, ২০২২ ১৯:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে আশাশুনির সর্বস্তরের জনগণ। এ সময় বক্তারা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আজ সোমবার লিডার্সের সহযোগিতায় আশাশুনি উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম ও উপজেলা যুব ফোরামের আয়োজনে আশাশুনি উপজেলা রোড চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুল হান্নান।

এ সময় বক্তৃতা করেন আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আহসান হাবীব, ফোরামের সদস্য ও উপজেলা লবণ পানি আন্দোলন কমিটির সভাপতি বিমল কৃষ্ণ মন্ডল, সমাজসেবক কল্যাণী রানী সরকার, ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মিনতি রানী সরকার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান দুর্যোগের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, জীবিকার উৎস হ্রাস, অপুষ্টি, সুপেয় পানির অভাবে রোগব্যাধি বৃদ্ধিসহ প্রতিবছর প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বক্তারা আরো বলেন, নদীভাঙনজনিত বন্যা, চিংড়ি চাষ, ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততার কারণে গত কয়েক বছরে সুন্দরবন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। সুন্দরবন উপকূলে ৭৩ শতাংশ পরিবার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত বা খারাপ পানি খেতে বাধ্য হয়। সুপেয় পানির জন্য একজন নারীকে প্রতিদিন তিন থেকে চার কিলোমিটার পথ হেঁটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

বিগত বছরগুলোতে উচ্চ জোয়ারের চাপ দেখা না গেলেও ২০২১ সালের মার্চ মাসে উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ২৬ মে সাইক্লোন ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ জোয়ারের কারণে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ উপজেলা, খুলনা জেলার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলা বেড়িবাঁধ উপচে পানি ভেতরে প্রবেশ করে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করেছে। বর্ষা মৌসুম নদীর খরস্রােত ও উচ্চ জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। ফলে মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে।

এ ছাড়া ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় রক্ষা বেড়িবাঁধ পরিকল্পনামাফিক সংস্কারের অভাবে প্রতিবছর একাধিকবার ভেঙে প্লাবিত করে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে উপকূলীয় এলাকাবাসীকে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা দাবি তুলে ধরে বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করতে হবে, উপকূলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, উপকূলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে একটি বাড়ি একটি শেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।



সাতদিনের সেরা