kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

বিশৃঙ্খলায় লিপ্তদের আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুন, ২০২২ ২০:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশৃঙ্খলায় লিপ্তদের আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যারা দেশে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার স্লোগানের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরো জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই শক্তি নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তারা '৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার' স্লোগানের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি, এমনকি সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত। যারা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

একই প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান জানান, সরকার দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকারের আমলেই দেশের সকল বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নসহ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না। তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।  

তিনি আরো জানান, এ সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য ও অর্জন নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। দেশ যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আমেজে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই সেতু উদ্বোধনকে সামনে রেখে সরকারের এ বড় অর্জন ম্লান করে দিতে একটি চক্র অপপ্রচার, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সরকারের এত বড় অর্জন থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে এ চক্রটি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুলিশকে আরো জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাসহ যুগোপযোগী এবং বর্তমান অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে 'বাংলাদেশ পুলিশ আইন (খসড়া)' করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খসড়া পুলিশ আইনে পুলিশকে আরো জনবান্ধব করে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপসহ বিভিন্ন ধারা-উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনায় তা সহায়ক হবে এবং পুলিশকে জনসেবায় অধিকতর আগ্রহী করে তুলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক বাংলাদেশ পুলিশ একটি শৃঙ্খল বাহিনী। তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ সদস্য কর্তৃক গাফিলতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। পুলিশ অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৮টি আইন ও অধ্যাদেশ রয়েছে। এ ছাড়াও সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুলিশকে আরো জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাসহ যুগোপযোগী এবং বর্তমান অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে বাংলাদেশ পুলিশ আইন (খসড়া) প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



সাতদিনের সেরা