kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

সেতুর প্রতিটি ধাপেই ছিল চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ জুন, ২০২২ ০২:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেতুর প্রতিটি ধাপেই ছিল চ্যালেঞ্জ

মো. শফিকুল ইসলাম

পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজিব ঘোষ

কালের কণ্ঠ : পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সময় আপনি কোথায় দায়িত্ব পালন করছিলেন? শফিকুল ইসলাম : ওই সময় আমি সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের শেরপুর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলাম।

কালের কণ্ঠ : পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন সময় যুক্ত হন?

শফিকুল ইসলাম : ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে।   

কালের কণ্ঠ : সেতু নিয়ে কি এটাই প্রথম কাজ?

শফিকুল ইসলাম : হ্যাঁ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আমি সড়কের অনেক প্রকল্পে কাজ করেছি। বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অনেক প্রকল্পে কাজ করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক ছাড়াও সিলেট, কুমিল্লা, শেরপুর ডিভিশনে কাজ করেছি।   

কালের কণ্ঠ : পদ্মা সেতুর পুরো নির্মাণপ্রক্রিয়ায় আপনি যুক্ত ছিলেন। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন নিশ্চয়ই...  

শফিকুল ইসলাম : প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পর শুরুতেই দেখলাম অনিশ্চয়তা। টাকা-পয়সা কে দেবে, কেউ বিশ্বাসই করে না আমরা নিজেরা করতে পারব। পরে প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালে ঘোষণা দিলেন আমাদের নিজের টাকায় সেতু করব। তখনো অনেকে বিশ্বাস করছিল না। আমাদের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকদের কেউ কেউ বিশ্বাস করতে চাইলেন না। নিজের টাকায় কিভাবে সম্ভব! আবার সরকার যদি টাকা দেয়ও এত বৈদেশিক মুদ্রা পাবে কোথায়! এগুলো থেকে বের হয়ে কাজটা শুরু করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের কণ্ঠ : আপনার চোখে এই প্রকল্পের সবচেয়ে কঠিন ধাপ ছিল কোনটি?

শফিকুল ইসলাম : একেকটি ধাপ একেক ধরনের। একটা চ্যালেঞ্জ শেষ করেলেই আরেকটা চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল ঠিকাদার ঠিক করা। ঠিকাদারদের কাজে আগ্রহী করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এটা না হলে বাকি চ্যালেঞ্জ তো মোকাবেলাই করতে পারব না। ঠিকাদাররা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, আমরা তাঁদের এত টাকা দিয়ে কাজ করাতে পারব। তখন জামিলুর রেজা স্যার মিলে আমরা আগাই, যেন ঠিকাদাররা আস্থা পান, আমাদের টাকা আছে, আমরা তাঁদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারব। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের কাজ। যদি ঠিকাদারদের আস্থা না থাকে তাহলে তাঁরা আসবেন না।    

কালের কণ্ঠ : পদ্মা সেতু প্রকল্পে আপনি ১১ বছর, এই সময়ে আপনার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত কোনটা?

শফিকুল ইসলাম : প্রতিটা ধাপের অর্জনই ছিল আনন্দের মুহূর্ত। সেটা একেবারে ঠিকাদারদের কাজে নিয়োগ দেওয়া থেকে শুরু হয়েছে। একইভাবে পাইলের কাজ শুরু করা, নতুন নকশা করতে পারা, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কাজ এগিয়ে নেওয়া...

কালের কণ্ঠ : প্রকল্প তো এখন প্রায় শেষ। এখন আপনার কেমন লাগছে?

শফিকুল ইসলাম : আমরা খুশি। একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। দেশের মানুষ এই সেতুকে নিজের মনে করে। সবাই ভাবে এটা আমাদের নিজের টাকায় হচ্ছে। প্রত্যেকেই মনে করে এটা আমার জিনিস। নয়তো দেখেন অন্য কোনো প্রকল্প নিয়ে কি এত নিউজ হয়েছে? পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল।

কালের কণ্ঠ : নদীশাসন এখনো চলছে। নদীশাসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রকল্পের অধীনে নদীশাসন আর কত দিন চলবে?

শফিকুল ইসলাম : এই প্রকল্পে নদীশাসন একটা বিশাল চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। প্রকল্পে প্রায় ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন করা হবে। এর মধ্যে ১২ কিলোমিটারের মতো শেষ হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে নদীশাসনের কাজ শেষ হবে। তবে আমরা ধরেছি জুন পর্যন্ত।   

কালের কণ্ঠ : আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও আপনার দায়িত্ব আছে, এরপর আপনার ভাবনা কী?

শফিকুল ইসলাম : একটা ভাবনা আছে, কিছু পড়াশোনা করব। আমি পড়তে ভালোবাসি। এখন পড়ার সময় কম পাচ্ছি। অনেক বই জমে আছে, সেগুলো পড়তে হবে।

কালের কণ্ঠ : দিন শেষে আপনি একজন প্রকৌশলী। একজন প্রকৌশলীর কাছে পদ্মা সেতু কি আর পাঁচটি সেতুর মতো? নাকি অন্য কিছু?

শফিকুল ইসলাম : যেকোনো প্রকৌশলীর কাছে এটা স্বপ্নের সেতু। এ ধরনের জটিল প্রকল্পে কাজ করা সবার সৌভাগ্য হয় না। সড়ক মহাসড়ক বিভাগে অনেক প্রকৌশলী আছেন যাঁরা কোনো দিন সেতুর কাজই করেননি। পৃথিবীতে এটা একমাত্র সেতু যেটা এত খরস্রোতা নদীতে হয়েছে। এই সেতুতে কাজ করা পৃথিবীর যেকোনো প্রকৌশলীর জন্য স্বপ্নের।   

কালের কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শফিকুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা