kalerkantho

শুক্রবার । ১ জুলাই ২০২২ । ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ । ১ জিলহজ ১৪৪৩

কালের কণ্ঠ-ওয়ার্ল্ড ভিশন গোলটেবিলে বক্তরা

শিশুশ্রম বন্ধে প্রয়োজন সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি    

২৩ জুন, ২০২২ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুশ্রম বন্ধে প্রয়োজন সচেতনতা

'আর নয় শিশু শ্রম এবং পথশিশু চলো স্কুলে যাই' প্রতিপাদ্য নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অনুষ্ঠিত গোলটেবিলে কালের কণ্ঠ ও ওয়ার্ল্ড ভিসনের সঙ্গে আয়োজন হিসেবে ছিল টঙ্গী আরবান প্রগ্রাম ও আর্টিস্টিক কমিউনিকেশন।  

দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বৈঠকে কালের কণ্ঠ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা প্রশাসন, শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, শিশু সংগঠন, সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, কেন শিশুশ্রম হচ্ছে, এটাকে আমরা যদি চিহ্নিত করতে পারি তাহলে শিশুশ্রম নিরসন সহজ হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠান শিশুশ্রমকে উৎসাহিত করে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লাভের আশায় অল্প বেতনে শিশুদের কাজে বাধ্য করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। আমরা যদি জনসচেতনতা তৈরি করতে পারি, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারি তাহলে শিশুশ্রম নিরসন করা সম্ভব।  

তিনি আরো বলেন, পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার সংখ্যাটা খুবই কম। কেউ কেউ ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, পথশিশুদের কিছু লেখাপড়া হচ্ছে, লেখাপড়া উপকরণ দেওয়া হচ্ছে তবে পথশিশুদের ভবিষ্যত চিন্তা করে কিভাবে শ্রম থেকে ফেরানো যায় সেবিষয়ে দেশে খুব কম কাজ হচ্ছে। পারিবারিক ভাঙনের কারণে পথশিশু ও শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। এসব সমাধানে আমাদের সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।  

এ সময় বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আহমেদ বেলাল, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ডেপুটি ডিরেক্টর ও রুরাল ক্লাস্টার মঞ্জু মারিয়া পালমা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোমেন মিয়া ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাবেদ আলী জবে, গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা ও অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক প্রমুখ।  

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা শিশুশ্রম বন্ধের দাবি জানান। এ ব্যাপারে বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানান তারা।  

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক জোট কোনাবাড়ী থানা কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, বড় বড় শিল্প কারখানাগুলোতে শিশুশ্রম নেই বললেই চলে। কিন্তু মহল্লায় মহল্লায় ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সাব কন্ট্রাকে কাজ করে। এসব কারখানায় নজরদারি না থাকায় কম বেতনে শিশুশ্রম চলছে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, প্রত্যেক শিশু তাদের অধিকারগুলো ভোগ করুক। যে সমস্ত শিশু স্কুলে যায় না বা ঝরে পড়ে তাদের স্কুলে নেওয়া কঠিন। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে স্কুলে যায়। তাদের জন্য মিড ডে মিল্ক ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।  

গাজীপুর জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফ খান বলেন, পথ শিশুদের মূল স্রোতধারায় আনতে হবে। কাউন্সেলিং করতে হবে। বাড়িতেও শিশুশ্রম আছে, সেখানেও কাউন্সিলিং প্রয়োজন।  



সাতদিনের সেরা