kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

রাজনৈতিক দলগুলো ডিসিদের বিশ্বাস করে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০২২ ০২:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজনৈতিক দলগুলো ডিসিদের বিশ্বাস করে না

ভারতে দুই-তিন মাস ধরে নির্বাচন চলে। ব্যালট বাক্স থাকে ডিসির কাছে। বাংলাদেশে কি এমন একজন ডিসি পাওয়া যাবে, যাঁর কাছে এক রাতের জন্য ব্যালট বাক্স রাখতে রাজি হবেন? তাঁরা পক্ষপাতের বদনাম কিনে নিয়েছেন। তাঁদের সে সাহসও নেই।

বিজ্ঞাপন

কোনো রাজনৈতিক দলই তাঁদের বিশ্বাস করে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে অনুষ্ঠিত সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) অষ্টম জাতীয় সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশের দেশ ভারতে নির্বাচন নিয়ে এমন প্রশ্ন নেই। ভারতে যাঁরা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হন, তাঁরা প্রশাসনের কর্মকর্তা। বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিস এখন এত দুর্বল করা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল একজন ডিসিকেও বিশ্বাস করে না।

আকবর আলি খান বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রথমত, সরকার গঠিত হয় ভোটের সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে। পৃথিবীর অনেক দেশ এই পদ্ধতি পরিহার করে ‘প্রপোরশনাল মেজরিটিকে’ গ্রহণ করছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের এককক্ষীয় সংসদীয় ব্যবস্থা। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ থাকলে সংসদে ভিন্নমতের প্রতিফলন হয়। তৃতীয়ত, আমাদের দেশে সব ক্ষমতা একজনের হাতে কুক্ষিগত। চতুর্থত, আমাদের সরকারপ্রধান আবার দলীয় প্রধান। তাঁকে রাজনৈতিক দল টিকিয়ে রাখার দিকে নজর দিতে হয়। ফলে জনগণ অধিকারবঞ্চিত হয়। ”

সুজনের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, যেকোনো শাসনব্যবস্থায় টেকসই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত শাসনকাঠামোর সর্বস্তরে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ইদানীং কেউ কেউ বলেন, আগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র। এটি কোনো কাজের কথা নয়।

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, দেশে সুধীসমাজ স্তিমিত হয়ে গেছে। সুশাসনের মতো গণতন্ত্রের বিভিন্ন মাপকাঠিতে দেশ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। ডিজিটাইজেশনের কারণে ছোট ছোট দুর্নীতি কমেছে, কিন্তু বড় বড় দুর্নীতি বন্ধ হয়নি, বরং বড় দুর্নীতি আঁকড়ে ধরেছে।

জাতীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কারে ২১ দফা জাতীয় সনদ তুলে ধরেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এতে বলা হয়, দুর্নীতি বৈষম্যমূলক সমাজ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে সংকটময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। সনদ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হবে স্বল্প মেয়াদের একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, যাদের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।

সুজনের সহসভাপতি হামিদা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুজনের সহসম্পাদক জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, নির্বাহী সদস্য বিচারপতি আবদুল মতিন, আলী ইমাম মজুমদার, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।



সাতদিনের সেরা