kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড : রুমিন ফারহানা

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জাপার বাবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ জুন, ২০২২ ২১:২০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড : রুমিন ফারহানা

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, একটি হত্যাকাণ্ড। এতগুলো জীবন ঝরে গেছে, কনটেইনার ডিপোর মালিকের চরম উদাসীনতায়। এদিকে তদন্তের মাধ্যমে সরকার ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

আজ সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মর্মান্তিক ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, সীতাকুণ্ডের ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যাকাণ্ড। চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদপ্তর বলেছে ওই ডিপোতে দাহ্য পদার্থ রাখার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণে বিশেষ ধরনের অবকাঠামো দরকার; কিন্তু ওই ডিপোতে সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।  

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসও বলেছে ডিপোর মালিকপক্ষের কেউ সেখানে কেমিক্যাল রাখার বিষয়টি জানায়নি। সেটা তাদের জানা থাকলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তাতে বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা কমে যেত। ফায়ারকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা হয়তো এতে হতো না। এই জীবনগুলো ঝরে গেছে কনটেইনার ডিপোর মালিকের চরম উদাসীনতায়।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য বলেন, সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান দলের এমন একটি পদে থেকে কোনো নিয়ম-কানুন মানার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। তিনি (মালিক) অনুমোদন ছাড়া ডিপো তৈরি করেছেন। সেই ডিপোতে অনুমোদন না নিয়ে কেমিক্যাল রেখেছেন। এমনকি যখন সেখানে আগুন লেগেছে তখন অগ্নিনির্বাপণের জন্য যারা গেছেন তাদেরকে কেমিক্যালের বিষয়ে কোনো রকম অবহিত তিনি করেননি। এই খুঁটির জোর তিনি কোথা থেকে পেলেন? এই খুঁটির জোর তিনি পেলেন এই কারণেই যে এই কম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। ক্ষমতাসীন দলের এমন একটি পদে থেকে কোনো নিয়ম-কানুন মানার প্রয়োজনীয়তা সম্ভবত তিনি বোধ করেননি।

ওই ঘটনায় ডিপো মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, ‌'আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০১২ সালে মারা যায় ১১১ জন পোশাককর্মী। সেই ঘটনার মূল আসামি তাজরীনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন। এই মামলার ১০ বছর হয়ে গেল, এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। বরং এই দেলোয়ার হোসেনকে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। দুই দিন পার হয়ে গেলেও বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ আইন ভঙ্গ করে তিনি ডিপোতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মতো দাহ্য পদার্থ বিশেষ কোনো অবকাঠামো ছাড়াই স্টোর করেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কাউকে জানানো হয়নি এখানে দাহ্য পদার্থ আছে। তাহলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এতগুলো প্রাণ আমাদেরকে হারাতে হতো না। আমি আপনার মাধ্যমে অনুরোধ জানাব, যাতে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। '

রাজধানীর নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১০ সালে এই দিনে ঘটা অগ্নিকাণ্ডে মারে যায় ১২৪ জন। শুনতে খুব অবাক লাগলেও সত্য যে এই বীভৎসতম দুর্ঘটনায় যেখানে ১২৪ জন মারা গেছে সে ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। একটি জিডি হয়েছিল, যার তদন্ত এখনো চলমান। এরপর চুড়িহাট্টায় ঘটে একই ঘটনা। এ দুটি ঘটনার কারণ একটাই, কেমিক্যাল গুদাম। ওই ঘটনার সরকার বলেছিল কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো পুরান ঢাকা থেকে সেই গুদাম সরানো হয়নি। সেখানে ১৫ হাজার কেমিক্যাল গুদাম ও দোকানের নামে বারুদ রয়েছে। এর মধ্যেই মানুষ বসবাস করছে।

এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, 'সীতাকুণ্ডের নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ ঘটনাটিকে কি আমরা দুর্ঘটনা হিসেবে সান্ত্বনা নেব, নাকি এর পেছনে কোনো নাশকতা রয়েছে? নিশ্চয়ই সরকার তদন্ত করে তা বের করবে বলে আশা রাখি। যদিও এসব ঘটনার তদন্তের আলোর মুখ আমরা দেখি না। ' তিনি আরো বলেন, 'সরকারকে বলব, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প করছেন ভালো, কিন্তু দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা যে যোজন যোজন দূরে আছি, সীতাকুণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে গেছে। '  

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য বলেন, 'এই দুর্ঘটনার পর অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে। টেলিভিশন টক শোতে সরকারপক্ষের সব বক্তব্য দেখি পজিটিভ ও বিরোধী পক্ষের বক্তব্য নেগেটিভ। আমরা ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেট দিই, কিন্তু কেন ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি আনতে পারি না? যখন জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সম্পন্ন করি তখন বিশ্বের দরবারে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। বিশ্বগণমাধ্যম প্রশংসা করে খবর হয়। কিন্তু বিপরীতে আগুনে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়, সেই লজ্জা রাখি কোথায়?' ফায়ারকর্মীদের হাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিতে পারলে সীতাকুণ্ডের ট্র্যাজেডির গল্পটা পজিটিভভাবে বিশ্বের কাছে আসত বলে উল্লেখ করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা