kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশবিষয়ক কর্মশালা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০২২ ২৩:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশবিষয়ক কর্মশালা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং বিনিয়োগ বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা গত ২৪ মে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন ও অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ওই কর্মশালা আয়োজন করে।  

কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও উপাচার্য অধ্যাপক জর্জ বয়েন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক অ্যালান স্পেইড, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক পরিচালক লিজ রাত্রে, স্থানীয় কমিউনিটি নেতা, জ্বালানী বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের ধান গবেষণা ও উৎপাদনবিষয়ক বিশেষজ্ঞসহ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল সুনীল অর্থনীতিতে টেকসই বিনিয়োগ, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা।

বিজ্ঞাপন

কর্মশালায় গবেষণা ও উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন, উচ্চ শিক্ষায় বিনিময় কর্মসূচি ইত্যাদি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

কর্মশালায় অধ্যাপক ও উপাচার্য জর্জ বয়েন উল্লেখ করেন, ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে গৃহীত সময়োপযোগী এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদার হতে চায় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারি বৃদ্ধির সব প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানায়।

তিনি উল্লেখ করেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় একটি অন্যতম জ্ঞানকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি ক্ষেত্রে অ্যাবারডিনের ঐতিহাসিক অবদান এবং প্রতিবেশ ব্যক্ষায় বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহযোগী হিসেবে অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের ধান গবেষণা ও উৎপাদন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম প্রাইস কৃষি এবং পোলট্রি ক্ষেত্রে টেকসই প্রযুক্তি হস্তান্তরের উপর গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আশ্চার্যজনকভাবে সফল একটি দেশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। অভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক সরবরাহে অবদান রাখতে বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি এবং পোল্ট্রি শিল্পে টেকসই প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিকল্প নেই। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি উত্তম জায়গা বলে কর্মশালায় মন্তব্য করা হয়।  
অধ্যাপক অ্যালান স্পেইড উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সহকারী হাইকমিশনার কাজী জিয়াউল হাসান বলেন, রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী উন্নত বাংলাদেশ রূপান্তরের লক্ষ্যে জ্ঞানভিত্তিক বিনিয়োগ, টেকসই প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা পর্যালোচনার কোনো বিকল্প নেই। অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বহু শতাব্দী প্রাচীন এবং বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অ্যবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় উভয়কেই উপকৃত করবে। তিনি বাংলাদেশের অথনৈতিক কূটনীতির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুনীল অর্থনীতি, কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বহুমুখীকরণে টেকসই বিনিয়োগ আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সুনীল অর্থনীতিসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ী এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের মূল আকর্ষণ, নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি কর্মশালায় তুলে ধরা হয়।  

দিনব্যাপী কর্মশালায় দেশি-বিদেশি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কে আরো অবহিত হন। এই কর্মশালা বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়েন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা মন্তব্য করেন।



সাতদিনের সেরা