kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

সংলাপ নিয়ে মত

নির্বাচন একাধিক দিনে করার বিষয় খতিয়ে দেখবে ইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ০৯:০৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্বাচন একাধিক দিনে করার বিষয় খতিয়ে দেখবে ইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কয়েকটি ভাগে, একাধিক দিনে করা সম্ভব কি না এবং এর সুবিধা-অসুবিধা কী—তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে ইভিএমের  ব্যবহার বা ব্যবহারের বিস্তৃতি বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বসে, মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে নির্বাচন কমিশন। তাতে পাওয়া প্রস্তাব ও পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তাদের মতামত জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন থেকে সংলাপের সময়ই জানানো হয়েছিল, সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশনের মতামত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। গতকাল রবিবার থেকে এই মতামত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের  জনসংযোগ শাখার পরিচালক যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংলাপে যেসব মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে ১৬টি পর্যালোচনা করে আট দফা মতামত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন বলেছে, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাবে।

প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের অপ্রতুলতা থাকলে একাধিক দিনে কয়েকটি ভাগে নির্বাচন করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব এসেছিল। কমিশন তার মতামতে বলেছে, কমিশন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর সম্ভাব্যতা, উপযোগিতা, সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

কমিশন জানিয়েছে, ইভিএমের সঠিকতা ও সম্ভাব্য অপপ্রয়োগের ঝুঁকি নিয়ে তারা এরই মধ্যে কয়েকটি সভা করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশিষ্টজনদের নিয়ে আরো পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ইভিএম ব্যবহার বা ব্যবহারের বিস্তৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ১২ মার্চ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পাঠানো একটা খাম আমার কাছে পৌঁছেছে। সংলাপে আমি যেসব প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তার মধ্যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কথাও ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের চিঠিতে যেসব প্রস্তাব লিপিবদ্ধ করেছে তাতে বিষয়টি নেই। ’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। কিন্তু সে মতামত নেওয়ার আগেই গত শনিবার নির্বাচন কমিশনার  আনিসুর রহমান মাদারীপুরে বলেছেন, ‘আমাদের ইভিএম পৃথিবীর সেরা। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ৩০০ আসনেই ইভিএমে নির্বাচন হবে। এগুলো ভালো ইঙ্গিত নয়। এর সঙ্গে যদি একাধিক দিনে নির্বাচন হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। এতে নির্বাচন আরো বিতর্কিত হবে। ’

স্বচ্ছতার জন্য ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপন করে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তর ভাগের দৃশ্য বাইর থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি কমিশন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে বলে মত দিয়েছে কমিশন।

সব রাজনৈতিক দল বিশেষত প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলকে অচিরেই সংলাপে আহ্বান করা হবে। ভোটকেন্দ্রে ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির প্রভাব প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার, বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন হবে।

কমিশন মনে করে, নির্বাচনে অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির প্রভাব প্রতিরোধ করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও সজাগ দৃষ্টি রেখে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, মতৈক্য ও সমঝোতা এ ধরনের সমস্যা নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ প্রতিরোধ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ ফলাফল নিশ্চিত করতে কমিশন সম্ভব সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

গত ২২ মার্চ নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন সিপিডির সম্মাননীয়  ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংলাপে আমাদের প্রস্তাব সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের মতামত পেয়েছি। কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে এবং কয়েকটি ভাগে করার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে যাচ্ছে—এটা আমি নেতিবাচকভাবে দেখছি না। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে,  নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একাধিক দিনে কয়েকটি ভাগে যদি নির্বাচন করতে পারে তাতে আপত্তি নেই। আমাদের দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য তো সীমিত। ’ 

তবে ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে মতামত দিয়েছে, তার সঙ্গে দ্বিমত আছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কমিশন ইভিএমের কারিগরি দিকটার কথা বলেছে। হতে পারে এর কারিগরি কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। ইভিএমে নির্বাচন হলে, সে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। যে কারণে অনেকের সঙ্গে আমিও সংলাপে এবারের সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। ’



সাতদিনের সেরা