kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

জলাবদ্ধতা রোধে জলাধার ভরাট বন্ধ করতে হবে : আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০২২ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলাবদ্ধতা রোধে জলাধার ভরাট বন্ধ করতে হবে : আইপিডি

রাজধানীর আশকোনায় ঢাকা মহানগরীর মহাপরিকল্পনা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন আইন, জলাধার সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশসংক্রান্ত আইনকে অমান্য করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক জলাশয় ভরাটের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই প্রতিবাদ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহল কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকল্পের নাম শোনা যায়। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এ ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের অন্যায়, অন্যায্য ও অবৈধ উদ্যোগ যখন রাজধানী শহরে সকল নগর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দিবালোকেই হয়, তখন টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়তে আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কেন আমরা কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারছি না, সে বিষয়টি এ ধরনের অন্যায় উদ্যোগের ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে এবং জলাশয়-জলাধার রক্ষায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে ঢাকাকে কোনোভাবেই বাঁচানো যাবে না বলে মনে করে আইপিডি।

এতে বলা হয়, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় ঢাকার নগরবাসী এমনিতেই  শঙ্কিত। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে জলাশয়-জলাধারসমূহের পানি ধারণক্ষমতার ওপর। একটি নগর এলাকায় জলাশয় এলাকা ১২-১৫ ভাগ থাকা দরকার হলেও ঢাকার জলাশয়-জলাধার এলাকা কমছে আশঙ্কাজনকভাবে।  
ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত জলাশয়-জলাধার নির্বিচার দখলের শিকার হচ্ছে। রাজধানীর অভ্যন্তরে এলাকার ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত আশকোনা এলাকার এই জলাশয় বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ নির্বিচারে ভরাট হলেও এই ভরাট বন্ধের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিপূর্বে রাজধানীর কুড়িলে জলাধার ভরাট করে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে যা পরবর্তী সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের মেয়রের উদ্যোগে এবং হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত করা হয়। এই ঘটনাগুলোতে বোঝা যায়, রাজধানীর জলাশয়-জলাধার রক্ষার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।  

রাজধানীর মহাপরিকল্পনার অধীন এলাকায় যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উদ্যোগে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার প্রতিপালন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট আইন ১৯৫৩ অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার যে বিধান আছে তা কেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে তার বিশ্লেষণ করা দরকার সরকারের। একই সাথে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা কেন এ ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না, সে কারণগুলোও উদঘাটিত হওয়া দরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়, আশকোনার এই জলাশয় ছাড়াও ঢাকার আশপাশে আমিনবাজার-আশুলিয়াসহ অনেক এলাকার জলাশয়-জলাধার নির্বিচারে ভরাট হচ্ছে। ঢাকাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সকল ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দোষীদের আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানাচ্ছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।



সাতদিনের সেরা