kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে ‘কঠোর কর্মসূচি’ : ছাত্রদল

অনলাইন ডেস্ক   

২১ মে, ২০২২ ২১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে ‘কঠোর কর্মসূচি’ : ছাত্রদল

ছাত্রদলের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-হামলা-মামলা বন্ধ না হলে ‘কঠোর কর্মসূচি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

আজ শনিবার বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্র দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-মলা-হামলা-গ্রেপ্তার চলছে। ঈদুল ফিতরের পর থেকে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে কোনো কারণ ছাড়াই ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বার বার গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এভাবে ছাত্র দলের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের বার বার গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে হয়রানি, নির্যাতন, মামলা গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। এই নির্যাতন বন্ধ না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময়ে ৭/৮ জন সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের প্যান্টের বেল্ট ধরে টানা হেঁচড়া করে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ছাত্র দলের সভাপতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৪০/৫০ জন কর্মীর ওপর পুলিশ অশালীন আচরণ ও মারধোরের ঘটনা ঘটায়। ছাত্রলীগের অপকর্ম আর দেশজুড়ে চলমান অরাজকতা আড়াল করতেই সরকার পরিকল্পিতভাবে ছাত্র দল সভাপতিকে গ্রেপ্তারের জন্য মারিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের সভাপতিকে বিনা কারণে বার বার গ্রেপ্তার ও হয়রানির এই অপচেষ্টা হচ্ছে। এ ঘটনার আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শুক্রবারে ধানমন্ডির ঘটনাস্থল থেকে ময়মনসিংগ ছাত্র দলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ ও কক্সবাজার জেলার সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আবদুর রহমান বাবুকে বেধড়ক মারধর করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের ছত্রছায়ায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের লাগামহীন আধিপত্য এবং তাদের বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য, ছাত্রলীগের ভর্তি বাণিজ্য, সিটি বাণিজ্য, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী আহত ও নিহত হওয়াসহ শিক্ষাঙ্গনে এক ভয়াল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে তারা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা কারসাজিতে প্রতিনিয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহ, অনলাইন নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সহ শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সহজলভ্যতা, অকার্যকর সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা, বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত সহানুভূতিশীল উত্তরপত্র মূল্যায়নের কারণে মানহীন জিপিএ ৫ এর ছড়াছড়ি, ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শতকরা ৯০% শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার মতো ঘটনাসমূহ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

পদ্মা সেতুর বিষয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শিষ্ঠাচার ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের নিন্দা জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র দলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদব রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা