kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

মৃত্যুহীন মাস কাটাল দেশ

কাজী হাফিজ   

২১ মে, ২০২২ ০৮:৩৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মৃত্যুহীন মাস কাটাল দেশ

করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) টানা এক মাস মৃত্যুহীন দিন পার করল দেশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা) এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। এটা ছিল দেশে করোনায় মৃত্যুহীন দিন কাটানোর ৩০তম দিন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৫০ জন।

বিজ্ঞাপন

নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ০.৬৯ শতাংশ। আর গত এক মাসে শনাক্ত হয়েছে ৭৮৩ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন শনাক্ত হয়েছে  প্রায় ২৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে করোনায় সর্বশেষ একজনের মৃত্যু হয় গত ২০ এপ্রিল। এর আগে ৪ ও ১১ এপ্রিল একজন করে মারা যায়। ১৮ এপ্রিল দুজন মারা যায়। অর্থাৎ এপ্রিলে ২৬ দিন মৃত্যুহীন ছিল।

টানা এক মাস মৃত্যুহীন কাটানোকে একই সঙ্গে স্বস্তির ও আনন্দের বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক মাসে যারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, তাদের সংক্রমণও গুরুতর নয়। তবে এখনো আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ অনেকে নেয়নি। বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ নেওয়ার হারও অনেক কম। এ বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়া পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেটাও বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত ২৯ এপ্রিল বলেছিলেন, আগামী জুনের মধ্যে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজারের করোনা টিকা দেওয়া হবে। এই মাধ্যমে দেশের প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

কিন্তু কভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শক কমিটি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল কথা বলে জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় কারিগরি কমিটির অনুমোদন পেলেও শিশুদের জন্য এই টিকা দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে টিকা প্রাপ্তির ওপর। এ ছাড়া পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা অ্যাপ এখনো প্রস্তুত নয়। আর বুস্টার ডোজের জন্য একটি ক্যাম্পেইন জুনের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হতে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে এখন পর্যন্ত দেশের ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৬১১ জন করোনা টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৪ জন। অর্থাৎ প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ মানুষ প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি বা নেওয়ার অপেক্ষায় আছে। আর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর বুস্টার ডোজ নিয়েছে এক কোটি ৩৯ লাখ ৫১ হাজার ২৭ জন। অর্থাৎ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর বুস্টার ডোজ নেয়নি প্রায় এক কোটি তিন লাখ মানুষ।

সার্বিক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন সর্বনিম্ন। বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে সংক্রমণ হচ্ছে। টানা মৃত্যুশূন্য দিন এটাই প্রমাণ করেছে। তবে মৃত্যুশূন্যতার সঙ্গে সংক্রমণশূন্য হলে আরো ভালো হতো। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বে করোনা অতিমারি এখনো দূর হয়ে যায়নি। উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল, তাদের দেশে করোনাভাইরাস নেই। কিন্তু এখন সেখানে করোনার ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে। চীনের সাংহাইয়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনেকে টিকা নেয়নি। সেখানেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের দেশে পরিস্থিতি ভালো রাখার জন্য যারা প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়নি বা দ্বিতীয় ডোজের পর ততৃীয় ডোজ টিকা নেয়নি তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ’ তাঁর মতে, পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুহীন দিন স্বস্তির ও আনন্দের। আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের আগামী প্রতিটি দিন এ ধরনের স্বস্তির ও আনন্দের হোক। এটা সম্ভব হবে যদি আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চলি। ’ তিনি জানান, বুস্টার ডোজের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ইপিআই। আর পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অনুমোদন এবং টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে।

সার্বিক বিষয়ে কভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়ার অনুমোদন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। আমাদের কমিটিও এটা অনুমোদন করেছে। ওই বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা অ্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। আর টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ’

একই বিষয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিচালক ও কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আমরা কোভ্যাক্স (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন ভ্যাকসিনবিষয়ক প্ল্যাটফরম) থেকে শিশুদের জন্য ফাইজারের ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছি। আর বুস্টার ডোজের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। ’



সাতদিনের সেরা