kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

নাগরিক প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়সভা

'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার, দরকার বিশেষ বরাদ্দ'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০২২ ১৮:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার, দরকার বিশেষ বরাদ্দ'

দুর্যোগকবলিত দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা থেকে নাগরিক প্রতিনিধি দল। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সুপেয় পানি সরবরাহে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় নতুন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিছেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের নেতৃত্বে নাগরিক প্রতিনিধি দল আজ বৃহস্পতিবার দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

বিকেলে কয়রা সদরে ফেইথ ইন এশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিজ্ঞাপন

ফেইথ ইন একশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য’র সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব)’র কোষাধ্যক্ষ আমিনুল হক ভূঁইয়া, ওয়াটার কিপার বাংলাদেশের প্রতিনিধি নূর আলম শেখ, কয়রার মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, শহীদ আলীম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সানজিদুল হাসান, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, সাংবাদিক কামাল হোসেন, আত্ম-সহায়ক দলের নেতা বৃষ্টি আক্তার প্রমূখ।

সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার। অবশ্যই এই অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। সেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় নাগরিক প্রতিনিধি দলের সুপারিশে বলা হয়, ভৌগলিক অবস্থান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভঙ্গুর অবকাঠামো, দারিদ্রতা, দীর্ঘমেয়াদী লবণাক্ততা, সংকটাপন্ন কৃষি, প্রভৃতির কারণে উপকূলীয় এলাকার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা। তাই ওই এলাকাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা নেওয়া দরকার। সেই মহাপরিকল্পনার আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

সভায় আরো বলা হয়, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উপকূলবাসীর সুপেয় পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে উপকূলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি সেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। উপকূলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।



সাতদিনের সেরা