kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানি নিয়ে আশঙ্কা

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

১৭ মে, ২০২২ ০৯:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানি নিয়ে আশঙ্কা

সরকারিভাবে গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এবার একেবারে দুশ্চিন্তা নেই। তবে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করায় এই আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার অবশ্য বিকল্প পাঁচটি উৎস থেকে গম আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 আলোচনা করছে ভারতের সঙ্গেও।

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট গম আমদানি করা হয় ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারিভাবে আসে চার লাখ ৭৮ হাজার টন এবং বেসরকারিভাবে আসে ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টন।

আর চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) গত ১১ মে পর্যন্ত সাড়ে ১০ মাসে আমদানি করা হয়েছে ৩৪ লাখ টন গম। এর মধ্যে সরকারিভাবে গম এসেছে চার লাখ ৪১ হাজার টন আর বেসরকারিভাবে এসেছে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টন।

চলতি অর্থবছরে সরকার সাড়ে ছয় লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আরো দুই লাখ টন গম দেশের গুদামে আনতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ছয় লাখ টন। কিন্তু সাত লাখ টনের মতো আমরা দরপত্র ডেকেছি। আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) এক লাখ টন গম ভারত থেকে দেশে পৌঁছবে। বাকিগুলো জুনের মধ্যেই চলে আসবে। ফলে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। ’

তবে গত অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে বেসরকারি উদ্যোগে গম আমদানি এখনো অন্তত ১৯ লাখ টন কম। সে হিসাবে বাকি গম আগামী দেড় মাসে বেসরকারি উদ্যোগে পূরণ করা নিয়ে শঙ্কা আছে।  

সরকার গম আমদানির জন্য বিকল্প উৎসর খোঁজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তারা বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর খুব বেশি প্রয়োজন হলে তারা বিবেচনা করবে। আমরা আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। পাশাপাশি ইউক্রেনসহ বিকল্প পাঁচটি উৎস থেকে গম আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ’

ব্যবসায়ীদের মতে, গমের দাম বেড়ে গেলে দেশে এর চাহিদা কমবে। তার পরও দেশের খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করতে গম আমদানির জন্য ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা দরকার। জানতে চাইলে দেশের অন্যতম গম আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘গমের দাম বাড়লে দেশে চাহিদা কমবে, এটা নিশ্চিত। এটার প্রমাণ পাওয়া যাবে আরো পরে। তবে আমাদের নজর থাকা উচিত ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকটের এই সময়ে সর্বোচ্চ কতটা গম আমদানি করে দেশের খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করা যায় সেদিকে। ’ তিনি আরো বলেন, সরকারি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি শেষের প্রক্রিয়ায় থাকা অন্তত পাঁচ লাখ টন গম দ্রুত দেশে আনা দরকার।

ভারত গত শুক্রবার হঠাৎ করেই গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দেশের গম আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের আমদানিকারকরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ গম আমদানির জন্য ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন। জানতে চাইলে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ৭০০ টনের একটি গমের চালান চুক্তি হয়েছিল ভারতীয় কম্পানির সঙ্গে। ঋণপত্র খুলে ২২ মে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর থেকে জাহাজে তোলার কথা ছিল। কিন্তু রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, কূটনৈতিক পর্যায়ে একটি চেষ্টা চলছে। অপেক্ষা করতে হবে। আমরাও চাই ছোট-বড় এ রকম চালানের অনুমোদন পেলে দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ’

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে গত রবিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারত থেকে গমের বাণিজ্যিক রপ্তানির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলেও রপ্তানির জন্য এরই মধ্যে চুক্তিবদ্ধ গমের চালানের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের প্রতিবেশী এবং অন্য দেশগুলো যারা তাদের সরকারের অনুরোধে অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তা নীতির পরিপূরক হিসেবে এই পণ্য সংগ্রহ করতে চায়, তাদের জন্য গম রপ্তানি সরবরাহ বন্ধ হবে না।

 



সাতদিনের সেরা