kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে তৎপর দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৭ মে, ২০২২ ০৩:১০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে তৎপর দুদক

পি কে হালদার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) দেশে ফেরাতে তৎপরতা শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁকে দ্রুত দেশে ফেরাতে গতকাল সোমবার জরুরি বৈঠক করেছে সংস্থাটি। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে চিঠি। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনেও দেওয়া হয়েছে চিঠি।

বিজ্ঞাপন

নেপথ্যের সহযোগীদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত ও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

যদিও গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো ভারত সরকারের কাছ থেকে তথ্য পায়নি।

এদিকে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রুলের শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবারের আদালতের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচারের অভিযোগে অন্তত ৩৪টি মামলা রয়েছে। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর ভারতের আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ড দেন।

পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের পর সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি শেষে গতকাল দুদকের প্রথম কার্যদিবসের শুরুতেই জরুরি বৈঠকে বসে সংস্থাটি। বৈঠকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফেরানো এবং পাচার করা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য করণীয় সব বিষয়ও নির্ধারণ করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া এবং যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের পর গতকাল সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে চিঠি দেয় এবং যোগাযোগ করা শুরু করে দুদক। চিঠিতে ও দিল্লিতে পাঠানো তারবার্তায় পি কে হালদারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। পাচার করা অর্থ ও সম্পদের তথ্য চেয়েও দেওয়া হয় চিঠি।

এদিকে পি কে হালদারের বিষয়ে দুদকের জরুরি বৈঠক শেষে গতকাল ব্রিফ করেছেন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। তিনি বলেন, ‘যে মামলাগুলোতে চার্জশিট হয়েছে, সে মামলায় পি কে হালদারের ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের দিক থেকে প্রেসার থাকবে দ্রুত তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে। এ জন্য ভারতীয় সবার সঙ্গেই আমরা যোগাযোগ করব। ’ সাঈদ মাহবুব বলেন, ‘কত দিনের মধ্যে তাঁকে ফিরিয়ে আনা যাবে, এটা নির্দিষ্ট করে বলা খুব কঠিন। কী পরিমাণ মামলা ভারতে হয়েছে, সেগুলোর বিচারে কত দিন লাগবে, এটার ওপর নির্ভর করছে পি কে হালদারের দেশে ফেরা। ’ তিনি জানান, পি কে হালদারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অবশ্যই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা প্রসঙ্গে সাঈদ মাহবুব বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, পি কে হালদারের কাছ থেকে তথ্য পেলে মানি লন্ডারিং হয়ে যেসব সম্পদ দেশের বাইরে গেছে সেগুলো ফেরত আনা সম্ভব হবে। ’

এদিকে দুদক সূত্র জানায়, পি কে হালদারসহ সব আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে কমিশন। ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশ এবং দুদকের মামলার তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ইন্টারপোল এনসিবি বাংলাদেশ হতে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত এনসিবিতে ইলেকট্রিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় পি কে হালদারসহ সব আসামিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।

এ ছাড়া তাঁদের দেশে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভারতে পাচার করা অর্থ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দেশে ফিরিয়ে আনার রুলে শুনানি হবে : পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। এত দিন এই রুল শুনানির অপেক্ষায় ছিল। সেই রুলের শুনানির আরজি জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। রাষ্ট্রপক্ষের আরজির পর আদালত জানান, মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রুলটি শুনানির জন্য তোলা হবে।

পরে এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রুলটি শুনানির জন্য মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। হয়তো শুনানির তারিখ ঠিক করে দেবেন। ’

ভারতের কাছ থেকে তথ্য পায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো ভারত সরকারের কাছ থেকে তথ্য পায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী বিনিময়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। যে দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে, সে দেশ বাংলাদেশকে জানাবে যে ওই ব্যক্তি সেখানে আছে। সেখানে শাস্তি হলেও ওই দেশ বাংলাদেশকে জানাবে। হয়তো বলবে, শাস্তি বাংলাদেশে এসে শেষ করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই পি কে হালদারকে ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা আছে।



সাতদিনের সেরা