kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে যোগাযোগ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০২২ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে যোগাযোগ শুরু

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কথা বলছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষও। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পি কে হালদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ইডি।

পি কে হালদারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল রবিবার বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারকে আটক করার কোনো তথ্য ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অর্থপাচার মামলার পলাতক আসামি পি কে হালদার। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচারের অভিযোগে অন্তত ৩৪টি মামলা রয়েছে। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করে ইডি।

ইডি একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় পি কে হালদারকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে আদালতে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

গতকাল এক বিবৃতিতে ইডি জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতীয় পাসপোর্ট ছাড়াও পি কে হালদারের কাছে গ্রানাডার পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

তিন দিনের রিমান্ড

ভারতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পি কে হালদারকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। গত শনিবার রাতে ইডি থেকে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। এরপর গতকাল রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। পি কে হালদারের সঙ্গে গ্রেপ্তার তাঁর পাঁচ সহযোগীর মধ্যে চারজনেরই তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি একজনকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে ইডি। পি কে হালদারসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ইডি।

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি

পি কে হালদারের বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল তিনি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পি কে হালদার বাংলাদেশের ওয়ান্টেড আসামি। আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে অনেক দিন ধরেই চাচ্ছি। সে অ্যারেস্ট হয়েছে। আমরা আইনগতভাবে কাজ করব। ’

প্রত্যর্পণ চুক্তিতে দেশে ফেরানো হবে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পি কে হালদারকে আমরা বন্দিচুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করব। এ কাজটি ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় ও দুদকও এ বিষয় সমন্বয় করবে।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তথ্য লেনদেন হচ্ছে। সুতরাং তাঁকে ফিরিয়ে এনে দুর্নীতির বিচারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকার পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের জানিয়েছিল, অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করছেন। সে তথ্যের ভিত্তিতে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাঁকে বাংলাদেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান রবিবার নিজ চেম্বারে বলেন, ‘পি কে হালদারের অপরাধের উৎস হলো বাংলাদেশ। তাই তাঁর মূল বিচার হবে বাংলাদেশেই। ’ তিনি বলেন, দেশে আনতে তিন থেকে ছয় মাসের বেশি লাগার কথা নয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে তখন কত দিন লাগবে, সেটা এখনই বলা যাবে না।



সাতদিনের সেরা