kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

মতিঝিলে টিপু হত্যা

অস্ত্র, মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়নি দেড় মাসেও

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৪ মে, ২০২২ ০৩:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ত্র, মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়নি দেড় মাসেও

মতিঝিলের জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল গত দেড় মাসেও উদ্ধার করা হয়নি। এগুলো ওই হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত। ধরা পড়েনি ওই মোটরসাইকেলের চালক ও অস্ত্র সরবরাহকারীও। ফলে এই মামলার তদন্ত কার্যত থেমে আছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে বাসায় যাওয়ার পথে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে মাইক্রোবাসে থাকা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় মতিঝিল শাখা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে (৫৪)। ওই সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন রিকশাযাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি (২০)।

ঘটনায় অভিযুক্ত বন্দুকধারী শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম আসা মতিঝিল ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শ্যুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন (৩৮) ও মোরশেদুল আলম ওরফে কাইলা পলাশকে (৫১) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ ছাড়া ডিবি গ্রেপ্তার করে আরেক যুবলীগ নেতা এরফান উল্লাহ দামালকে।

এই হত্যার নির্দেশদাতা সুমন শিকদার মুসা ঘটনার পরপরই গোয়েন্দার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশ চলে যান। দেশের বাইরে থেকেও তিনি মতিঝিল এলাকার অপরাধ জগতে প্রভাব ধরে রাখছেন বলে তথ্য আছে পুলিশের কাছে। এ অবস্থায় মতিঝিল আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিরাপত্তা চেয়েছেন পুলিশের কাছে। নিহত টিপুর স্ত্রী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন।   

টিপু হত্যাকাণ্ডে মূল শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে গ্রেপ্তার করলেও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আর সেদিন তাঁর মোটরসাইকেলচালক হিসেবে নাম এসেছে মোল্লা শামীমের। তাঁকেও গত দেড় মাসে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ—ডিবি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটাই দিচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের প্রধান শ্যুটার আকাশ স্বীকার করেছেন, মুসার নির্দেশেই তিনি কাজটি করেছেন। তবে এর ওপরে কারা রয়েছে সে সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার অন্যদের কাছ থেকেও খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পাইনি। তাঁদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো শামীম ও মুসাকে গ্রেপ্তার করা। ’

অস্ত্র উদ্ধার কিংবা কতটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল তা জানতে চাইলে রিফাত রহমান শামীম বলেন, উদ্ধার করা গুলির খোসার ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যেত যে এ হত্যায় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না। হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

মামলাটির ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, টিপু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে একজন হলো মুসা। তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে অন্যদের নামও বেরিয়ে আসত। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় মোটরসাইকেল যিনি চালাচ্ছিলেন, সেই মোল্লাহ শামীমকেও আমরা খুঁজছি। ’

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চেষ্টা করছে অপরাধীদের ধরতে।



সাতদিনের সেরা