kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

৫৬% শ্রমিকের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২২ ১০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৫৬% শ্রমিকের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ৯ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের ওই দুর্ঘটনায় প্রায় এক হাজার ২৩৬ জন তৈরি পোশাক কর্মী মারা যান। আহত হন প্রায় দুই হাজার ৫০০ শ্রমিক। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, আহত শ্রমিকদের ৫৬.৫ শতাংশের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

অ্যাকশনএইডের জরিপে উল্লেখ করা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে কোমর, মাথা, হাত-পা ও পিঠে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ৭০ শতাংশ নারী ও ৩০ শতাংশ পুরুষ কর্মীর সঙ্গে টেলিফোনে সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল সোমবার এই জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক ও স্বাস্থ্য জটিলতা দিন দিন বাড়ছে।

জরিপে উল্লেখ করা হয়, আগের বছরগুলোতে পরিচালিত জরিপে দুর্ঘটনায় আহত পোশাককর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পর্যায়ক্রমে উন্নতি দেখা গেলেও এ বছর অবনতি দেখা যাচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ আহত কর্মীর অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল এবং ১০.৫ শতাংশের অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল। জরিপে বলা হয়, গত বছর যেখানে মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত ছিলেন ১২.৫ শতাংশ, এ বছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮.৫ শতাংশে। ৩১ শতাংশ আহত ব্যক্তি বলেছেন, তাঁদের মানসিক অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল এবং ২০.৫ শতাংশ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।

জরিপে বলা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫৩ শতাংশ এবং ৪৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ বলেছেন, শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁরা কাজ করতে পারেন না এবং ১০ শতাংশ এখনো মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। আহত শ্রমিকদের মধ্যে ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখা গেছে। এ জন্য শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় একই ধরনের কাজ করার অক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জরিপ অনুসারে, ১৪.৫ শতাংশ পুরনো পেশা তৈরি পোশাক শিল্পে ফিরে গেছেন। ৮ শতাংশ টেইলারিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন। অনেকেই তাঁদের পেশা বদলে গৃহকর্ম, দিনমজুরি, কৃষিকাজ, বিক্রি ও গাড়ি চালানোর মতো পেশা বেছে নিয়েছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.৫ শতাংশ বলেছেন, করোনা মহামারি চলাকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাঁদের কাছে ছিল না। ৫১.৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি এবং ২২.৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা সন্তানের সঠিক যত্ন নিতে পারেননি। ৪৬.৫ শতাংশকে মহামারি চলাকালে তাঁদের পরিবারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ঋণ করতে হয়েছে।

জরিপে আরো বলা হয়, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৩৬ শতাংশের পারিবারিক আয় পাঁচ হাজার টাকা ও ৩৪ শতাংশের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। ৩৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের মাসিক খরচ ১০ হাজার টাকার বেশি এবং ৩০ শতাংশের ১৫ হাজার টাকার বেশি। বেশির ভাগ খরচ হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ৯ তলা রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে ছয়টি তৈরি পোশাক কারখানা ছিল। এগুলোতে কাজ করতেন প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক। রানা প্লাজা ধসের পর বিশ্ববাজারে প্রশ্নের মুখে পড়ে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে ভাবমূর্তির সংকটে পড়ে দেশের পোশাকশিল্প।

পরে অবশ্য বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে দেশের পোশাক কারখানায় সংস্কারকাজ করা হয়। এতে এই খাতের কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়। ফলে ধীরে ধীরে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বাজারে ফিরে আসে।

 



সাতদিনের সেরা