kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

মোশতাককে শ্রদ্ধা : তোপের মুখে ক্ষমা চাইলেন ঢাবি শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০২২ ১৬:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোশতাককে শ্রদ্ধা : তোপের মুখে ক্ষমা চাইলেন ঢাবি শিক্ষক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পকিল্পনাকারী খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। মুজিবনগর সরকারের দিবসের এক আলোচনাসভায় এই শ্রদ্ধা জানান তিনি। তবে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা চান তিনি।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, ‘মুজিবনগর দিবসের আলোচনাসভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমি যদি অজ্ঞতাবশত কোনো শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করে থাকি তা নিতান্তই আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এ জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। সেই বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী সকলের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। ’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘আলোচনাসভায় আমি মুজিবনগর সরকার গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করি। আলোচনাকালে মুজিবনগর সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মুজিবনগর সরকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কুলাঙ্গার খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতি আমি ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করি। ’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নীল দল থেকে প্রথম সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হই। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বহুবার নীল দল থেকে মনোনীত হয়ে সিনেট, সিন্ডিকেট, ডিন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় সব সময় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। ’

এদিকে অধ্যাপক রহমত উল্লাহর এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনায় সরব হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে এই ধৃষ্টতামূলক বক্তব্যের অপরাধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সুন্দর ও পরিশীলিত ভাষায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। আশা করি তাদের দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করার মতো কেউ সমাজে থাকবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলনের মূল্যবোধবিরোধী কোনো দর্শন ও ধারণার প্রতিফলন এই জাতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করবে না। এ কারণেই আমরা বিষয়গুলো নিয়ে খুবই যত্নশীল। এখানে দ্বিমত করার কোনো কারণ নেই। দাবিগুলোর সাথে আমি একমত পোষণ করি এবং আশা করি একটি সুন্দর সমাধান আসবে। ’



সাতদিনের সেরা